ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে বুকে- পিঠে,পুরুষাঙ্গে কিল-ঘুষি,লাথি মেরে এমদাদুল হক (৪০) নামের এক সিকিউরিটি গার্ডকে গুরুতর আহত করে।
এসময় স্থানীয়রা মাটিতে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় এমদাদকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বারইহাটি বটতলা বাজারে একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি দেখা দিলে সেখান থেকে গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি হাসপাতালে নিয়েগেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এমদাদুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে নিহত এমদাদুলকে ওই দিনই বারুইহাটি তার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এলাকায় খবর ছড়িয়ে পরে এমদাদুল হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছে। এমনকি এমদাদুল স্ত্রী-সন্তানসহ তার আত্মীয়দেরও জানানো হয় এমদাদুল হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছে। পরদিন মুসলিম রীতি অনুয়ায়ী এমদাদুলকে দাফন-কাফনের প্রস্তুতিও চলছিল।
এ সময় হঠাৎ করেই বাকপ্রতিবন্ধী (বোবা) সাহাবুদ্দিন এমদাদুলের বাড়িতে এসে ইশারায় বুজাতে চেষ্টা করে এমদাদুল হার্ট এ্যাটাকে মারা যায়নি। তাকে খুন করা হয়েছে। এমদাদুলকে বুকে-পিঠে কিল-ঘুসি মেরেছে কাজল, আরিফ মিয়া, রফিকুল ইসলাম নামের ঘাতকরা।
এ ঘটনায় ২৮ নভেম্বর শিউলি আক্তার বাদী হয়ে প্রতিবেশী লাকী আক্তার, আরিফ মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে আসামী করে পাগলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ নভেম্বর ময়মনসিংহের পাগলা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামে। নিহত এমদাদুল ভালুকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরী করতেন। তিনি স্বপরিবারে ভালুকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।
এমদাদুলের স্ত্রী শিউলী খাতুন বলেন স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে বিপাকে আছি। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। খুনিদের এখনও ধরা হয়নি। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাদের ফাঁসির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
পাগলা থানার ওসি শাহিনুজ্জামান খান বলেন, প্রাথমিক সুরতাল প্রতিবেদনে নিহত এমদাদুলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার পর লাশ ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকপ্রতিবন্ধী (বোবা) সাহাবুদ্দিনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। আসামীরা পলাতক রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।





