নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার চর হাইজদা ফসলরক্ষার স্থায়ী বাঁধটি ভেঙে গেছে। গত বুধবার গভীর রাতের কোনো এক সময় বাঁধটি ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা তা দেখতে পান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত ও মোহনগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে তৈরি এ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাটি নাশকতা হতে পারে বলে সন্দেহ পাউবোর কর্মকর্তাসহ স্থানীয় অনেকের।
স্থানীয় কৃষকদের বরাতে প্রকৌশলী সৈকত ঘটনাস্থল থেকে জানান, বুধবার গভীর রাতের কোনো এক সময়ে গাগলাজুর বাজারের দুই কিলোমিটার উত্তরদিকে বাঁধটির প্রায় ৬০ মিটার জায়গা ভেঙে গেছে। এ অংশ দিয়ে ডিঙ্গাপোতাসহ আশপাশের হাওরগুলোতে পানি ঢুকছে। খবর পেয়ে সকালেই তারা বাঁধটি দেখতে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকত বলেন, গত বছর প্রায় ৩৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোহনগঞ্জের চরহাইজদা এলাকায় ৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ৫ কিলোমিটার অংশে স্থায়ী বেড়িবাঁধ করা হয়। স্থায়ী বাঁধটি পানির চাপে ভাঙার কথা না। পানিও কমে গেছে। এই মুহূর্তে এ ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।
জেলার কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ এম মোবারক আলী জানান, হাওরে মাত্র ৫% ফসল কাটার বাকি রয়েছে। এর মধ্যে মোহনগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওরের আড়াই শ হেক্টর জমির ফসল কাটা বাকি রয়েছে।
এর আগে গত সোমবার রাতের আঁধারে খালিয়াজুরী উপজেলার পেটনার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের একটি অংশ জলমহালের ইজারাদারের লোকজন কেটে দেয়।
এনিয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান হাকিমসহ ১৭ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
গণমাধ্যমকে পাউবোর এ কর্মকর্তা বলেন, ‘৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ চর হাইজদা বাঁধটি নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ। তিন বছর আগেও গাগলাজুর এলাকায় বাঁধটির ৫ কিলোমিটার অংশ খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিসি ব্লক (পাথর ও সিমেন্টের তৈরি) দিয়ে ওই ৫ কিলোমিটার অংশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
‘বাঁধটি খুব মজবুত ছিল। ভেঙে পড়ার মতো কোনো পূর্ব লক্ষণ ছিল না। তাই আমরা মনে করছি, এটি নাশকতার পাঁয়তারা হতে পারে’- যোগ করেন তিনি। স্থানীয় কৃষকদের অনেকে মনে করছেন, আশপাশের জলমহালে মাছ ঢোকাতে অথবা মাছ ধরার উদ্দেশে রাতের আঁধারে বাঁধটি কেটে দেওয়া হতে পারে। তাই বিষয়টি তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। গাগলাজুর এলাকার কৃষক বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘গাগলাজুরের কয়েকটি ছোটখাটো হাওর ছাড়াও উপজেলার সবচেয়ে বড় ডিঙ্গাপোতা হাওরের ফসলের সুরক্ষা দেয় এ চরহাইজদা বাঁধ। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে এখন ওই হাওরগুলোতে পানি ঢুকছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এসব হাওরের বেশিরভাগ ধান কাটা হয়ে গেলেও কিছু ধান এখনো কাটা হয়নি। তাছাড়া হাওরগুলোতে অনেকের খড় ছিল, যা পানিতে ভেসে যাচ্ছে।’
স্থানীয়রা বলছে, ডিঙ্গাপোতা হাওরের ফসল রক্ষার জন্য চর হাইজদা বাঁধটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডিঙ্গাপোতায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমি আছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়ে গেলেও ‘দেরীতে ফলে’ এমন ভ্যারাইটির কিছু ধান এখনও কাটা হয়নি।
বাঁধ ভেঙে পড়ায় ওই জমিগুলো হুমকির মুখে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের দ্রত ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।





