হজের প্রতিটি ফিরতি ফ্লাইটে বিলম্ব

হজের প্রতিটি ফিরতি ফ্লাইটে বিলম্ব

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

হজের প্রতিটি ফিরতি ফ্লাইটে বিলম্ব

# দায়িত্বহীনতার অভিযোগ গাইডদের বিরুদ্ধে # পথ হারিয়ে ভোগান্তির শিকার হাজীরা

  • কামাল মোশারেফ
  • প্রকাশিত ২৯ অগাস্ট, ২০১৮

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন হাজীরা। তবে প্রতিটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্বে ঢাকায় পৌঁছেছে। এদিকে দেশে ফিরে হাজীরা অভিযোগ করেন, হজ শুরুর পর হজকর্মীদের মক্কা ও মিনায় দেখা গেলেও পরে তাদের আর দেখা যায়নি। ফলে অনেক হাজী মক্কা থেকে মিনায়, আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা হয়ে ফের মক্কায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে রাস্তাঘাট হারিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। সবশেষ ফিরতি হজ ফ্লাইট আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর। এ বছর পবিত্র হজ পালনে ৩৭১টি হজ ফ্লাইটে হজ ব্যবস্থাপনার সদস্যসহ ১ লাখ ২৭ হাজার ২৯৮ জন সৌদি আরব গেছেন। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজ পালনের জন্য গেছেন। সৌদি এয়ারলাইনসে ৬৩ হাজার ২৪০ জন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে ৬২ হাজার ৮১০ জন হজের উদ্দেশ্যে সৌদি গেছেন। দেশে ফিরে হাজীরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হাজীদের সহায়তাসহ পথনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য ও হারিয়ে যাওয়া হাজীদের খুঁজে বের করতে মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় মোট ১৪৯ হজ গাইড নিয়োগ করা হয়। প্রত্যেক গাইডকে ৪৫ জন হাজীর গ্রুপ লিডারের দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। কিন্তু হজ শুরুর দিকে কিছু হজকর্মীকে আরাফাত ও মিনায় দেখা গেলেও পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া শুরু থেকে মক্কার মিনা, আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা ও মদিনায় গিয়েও হাজীরা পাশে পাননি কোনো গাইডকে। ফলে মিনা, আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা হয়ে ফের মক্কায় ফিরে আসার সময় রাস্তাঘাট হারিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন অনেক হাজী। কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় মিনার জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও হেরেম শরিফে ফিরে ফরজ তওয়াফ ও সাফা মারওয়া পাহাড় সাই সম্পন্ন করতে বেগ পেতে হয়েছে।

এসব হজকর্মী দেশে ফেরার আগে হাজীদের সেবাদানের বদলে কেনাকাটা ও সৌদিতে অবস্থানরত আত্মীয়স্বজনদের কাছে বেড়ানো নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ হাজীদের।

এছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হাজীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এজেন্সিগুলোর অব্যবস্থাপনায় মক্কার রাস্তায় রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করতে হয়েছে বাংলাদেশি শত শত হাজীকে। এজেন্সির কাউকে খুঁজে না পেয়ে মিনা ও আরাফাত ময়দানে রাত কাটাতে হয়েছে তাদের।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা একেএম সাদুল আহসান বলেন, আমরা বেসরকারি হজ এজেন্সি সানফ্লাওয়ার ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে হজে যেতে টাকা জমা দিই। পরে সৌদি আরবে গিয়ে শুনি আমাদের আরব বাংলা ওভারসিজের নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে হজে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের যে খাবার দেওয়া হয়েছে তা ছিল খুবই নিম্নমানের। আমাদের দেশি কোনো খাবার দেওয়া হয়নি, দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানি খাবার, তা সবাই খেতে পারেননি। এ কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়া মিনা ও আরাফাতের তাঁবুতে ধারণক্ষমতা ২৫০ জনের, সেখানে অন্য এজেন্সির আরো ১১৫ জনকে রাখা হয়। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে একসঙ্গে ৩৬৫ জনকে ঠাসাঠাসি করে রাখা হয় এক তাঁবুতে। আমাদের মোয়াল্লেমকেও আমরা খুঁজে পাইনি।

গত বছর হজে অনিয়ম এবং প্রতারণার দায়ে আরব বাংলা ওভারসিজকে জরিমানা করেছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সাদুল আহসান আরো জানান, ভোলার মাওলানা ইব্রাহিম খলিল মিনারে পাথর নিক্ষেপ করতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন। দুই দিন পর তিনি হোটেলে ফিরে আসেন হজ করতে আসা আমেরিকায় বসবাসকারী এক বাংলাদেশির সহায়তায়। এ রকম শত শত হাজীকে পথ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অথচ ইন্দোনোশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ভারত হাজীদের সহায়তা করার জন্য রাস্তায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে তাদের অসংখ্য হজকর্মী। আমাদের দেশের হজকর্মীদের খুঁজে পাওয়া যায় না।

অপরদিকে পবিত্র হজ পালনের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের মো. আজিজার রহমান গোলদার। তার জামাতা শাহ আলম শিপন বলেন, ২০ আগস্ট রাতে মিনা থেকে আমার শ্বশুর হারিয়ে যান। ওইদিনের পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার সফরসঙ্গী অন্য হাজীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিনায় অবস্থানের সময় আজিজার রহমান বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে আর ফিরে আসেননি।

অপরদিকে সোমবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি ও সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মোট ৯০৩ জন হাজী ঢাকা পৌঁছান। তবে পবিত্র হজ পালন শেষে নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন হাজীরা। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। ফ্লাইটটি রাত ১০টা ১০ মিনিটে অবতরণের কথা ছিল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads