চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ছয় ইউনিয়নের মধ্যে অধিকাংশ এলাকা মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে। আর এ চরাঞ্চলে উৎপাদিত সবজি দিয়ে চাহিদা মেটায় উপজেলার প্রায় সোয়া লাখ মানুষ। আবার কোনো কোনো সময় নিজ এলাকার চাহিদা মেটানোর পর এসব সবজি জেলা সদরেও বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা।
গতকাল হাইমচর উপজেলা সদর, বাংলাবাজার, আলগী বাজার ও চরভৈরবী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজি বাজার এবং গ্রামাঞ্চলের দোকানগুলোর সামনে চরাঞ্চলের উৎপাদিত সবজি। নারী-পুরুষ সব বয়সের মানুষই তাদের পরিবারের চাহিদামত বাজার থেকে সবজি কিনছেন। প্রতিদিন সকালে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড় থেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারগুলোতে এসব সবজি নিয়ে আসেন কৃষকেরা। বর্ষা মৌসুমে লাউ, চাল কুমড়া, কচুর লতি ও কাঁচা কলাই বেশী আসতে দেখা যায়।
আলগী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, সবজি ছাড়াও চরাঞ্চল থেকে হাঁস, মুরগী, ছাগলও নিয়ে আসেন কৃষকরা। শহর অঞ্চল থেকে এসব বাজারে সব কিছুর মূল্য অনেক কম। কারণ এখানকার লোকজন অধিকাংশই কৃষক ও জেলে। কৃষিকাজ ও মৎস্য আহরণ করেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করে।
চরভৈরবী বাজারের ব্যবসায়ী বাচ্চু বেপারী জানান, বছর জুড়ে চরাঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণের সবজি আমাদের বাজারগুলোতে আসে। কৃষকরা নিজেরাও নিয়ে আসেন আবার অনেক সময় ব্যবসায়ীরা চরাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসেন। আর এসব সবজি কোনো ধরনের কেমিক্যাল মেশানো হয় না। টাটকা সবজি হওয়ার কারণে মুহুর্তের মধ্যেই বাজারে এসব বিক্রি হয়ে যায়।
চরভৈরবী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য স্বপন বাংলাদেশের খবরকে জানান, মাঝের চর, নীল কমল এলাকায় কয়েকশ একর জমি রয়েছে। এসব জমিগুলোতে কৃষকরা তাদের সুবিধামত সবজি চাষ করেন। কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় কৃষি আবাদ করতে সমস্যা হয়। আর এখানকার কৃষকরা পূর্বপূরুষদের কাছ থেকে শিখেই সবজি চাষ করেন। তাদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ নেই। তারপরেও জমিগুলোতে বর্ষা মৌসুমে পলিমাটি পড়ার কারণে ফলন ভাল হয়। এসব কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিলে উৎপাদন আরো বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বাংলাদেশের খবরকে জানান, হাইমচর কৃষির জন্য একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা। এখন আমরা কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছি। নদী পাড়ি দিয়ে চরাঞ্চলে আসা-যাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য হলেও আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের কাছে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।