ভোট দেন না রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ
১৯৫৩ সালে রানি হওয়ার পর থেকে কখনোই ভোট দেননি রানি এলিজাবেথ। তিনি ভোট দিতে পারবেন, নাকি পারবেন না- এমন কোনো নিয়মও অবশ্য নেই। যুক্তরাজ্যের সংবিধান লিখিত নয়। সুতরাং সেখানে এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়মও নেই যে তিনি ভোট দিতে পারবেন কি পারবেন না। সম্মানার্থে তার ভোট দেওয়ার অধিকার অবশ্যই আছে, চাইলে তিনি ভোট দিতে পারেন; কিন্তু নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য কখনোই রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ভোট দেন না।
বেশিরভাগ দেশেই নির্বাচন হয় রোববার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন হয় মঙ্গলবার; কিন্তু বাকি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই ভোটের দিনটি ধার্য করা হয় রোববার। আমাদের দেশের আগামী নির্বাচনটিও অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর, রোববার। সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলো কাজে লাগানোর জন্যই এ ব্যবস্থা। তবে বিশ্বের আরো কয়েকটি বড় গণতান্ত্রিক দেশে অবশ্য রোববার ছাড়াও অন্যান্য দিন ভোট অনুষ্ঠিত হয়। যেমন ব্রিটেনে হয় বৃহস্পতিবার, কানাডায় সোমবার, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে শনিবার। আগে ভোট দেওয়ার জন্য কৃষক ও শ্রমিকরা দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে ভোটকেন্দ্রে আসতেন, ফলে তারা নিজবাড়িতে ফিরে গিয়ে যেন আবার কাজে যোগ দিতে পারেন সেজন্য ছুটির দিন বুঝে ভোটের দিন নির্ধারণ করা বহু প্রাচীন রীতি।
ভারতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তাহজুড়ে
বিশ্বের সর্ববৃহ গণতান্ত্রিক দেশ ভারত, লোকসংখ্যার অনুসারে। ভারতে ভোট দেয় প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ভোটার অর্থাৎ ৮০ কোটি ভোটার। এই দেশে সম্পূর্ণ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে সময় লাগে তাই পুরো এক সপ্তাহ! আর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল জানতে কখনো কখনো এক মাসও লেগে যায়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৫৪৩ জন সংসদ সদস্য নির্ধারণ করতে পাঁচ সপ্তাহের ৯টি আলাদা কর্মদিবস লেগেছে!
সুইডেন ও ফ্রান্সে ভোটাররা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যান
সুইডেন ও ফ্রান্সে ভোটের আগে ভোটারদের নিবন্ধিত হওয়ার জন্য কোনো ঝামেলাই পোহাতে হয় না। ১৮ বছর বয়স হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নিবন্ধিত হয়ে যান। তার জন্য আর আলাদা করে নিবন্ধিত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
অস্ট্রেলিয়ায় ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক
আঠারো বছরের ঊর্ধ্বে যে কোনো নাগরিকের জন্য ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক অস্ট্রেলিয়ায়। ভোটের দিন যিনি ভোট দিতে যাবেন না, তার জরিমানা হবে ১৫ ডলার। আর জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয়বার জরিমানা হবে ১৮০ ডলার। তারপরও যথাসময়ে জরিমানা না দিলে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাবে একেবারে ক্রিমিনাল চার্জে!
আসছে কি অনলাইনে ভোটের দিন!
পূর্ব ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়া। ফিনল্যান্ড ও বাল্টিক সাগরের তীর ধরে ছোট্ট এ দেশে ২০০৫ সাল থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের আর সকাল সকাল লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে হয় না। বাড়িতে বসেই অন লাইনে ভোট দিয়ে দিতে পারেন। ২০১৫ সালে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার এ সুযোগ নিয়েছেন। এর জন্য এস্তোনিয়ার ভোটাররা একটি আইডি ও পিন নাম্বার পেয়েছেন, একজন ভোটার একবারই মাত্র সেটা ব্যবহার করতে পারেন। ধারণা করা যাচ্ছে, খরচ ও সময় বাঁচাতে আগামী দিনে আরো অনেক দেশেই প্রযুক্তির এই সুযোগটি গ্রহণ করবে। তবে অনলাইন ভোট হ্যাক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও বিতর্ক কম নয়।
ভোট দিতে পারেন মহাকাশচারীরাও
১৯৯৭ সাল থেকে মহাকাশচারীদের ভোটদান পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যেসব মহাকাশচারী কাজ করেন, ভোটের দিন তারা টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার মিশন কন্ট্রোল রুমে তাদের ব্যালট পেপারের পিডিএফ ভার্সন পাঠিয়ে দিতে পারেন মেইল করে। তখন তার একজন প্রতিনিধি সেই কোড নিয়ে তার হয়ে ব্যালট পেপার জমা দিয়ে দেবেন।