সহস্রাধিক পুলিশের শাস্তি

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

সহস্রাধিক পুলিশের শাস্তি

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত ১ হাজার ১২ পুলিশ সদস্যকে সাজা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধে চাকরিচ্যুত করা হয় ৬১ জনকে। তবে পুলিশ সূত্র দাবি করেছে, ২ লাখ সদস্যের মধ্যে সাজা পাওয়া এ সংখ্যাকে বড় করে দেখার কিছু নেই। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যাতে অপরাধে না জড়ায় সে লক্ষ্যে পুলিশ সদর দফতর থেকে ‘নার্সিং’ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা কমে আসবে।

সূত্র জানায়, পুলিশ সদস্যদের অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনতে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি নানা উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ সদর দফতর। একই সঙ্গে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

সূত্রের দাবি, সময় বদলেছে, অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণের অভিযোগে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার ২ পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ডাকবাংলোতে আটকে রেখে তরুণীকে জোর করে ইয়াবা সেবন করিয়ে ধর্ষণ করে তারা।

নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী পরে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে গ্রেফতার করা হয়। ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার দুই পুলিশ সদস্য হলেন— সাটুরিয়া থানা পুলিশের এসআই সেকেন্দার  হোসেন এবং এএসআই মাজহারুল ইসলাম। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে মারধর, হত্যার হুমকি ও চাঁদার দাবিতে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ শিকদারকে প্রত্যাহার করা হয়। সিলেটের চাঞ্চল্যকর শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যার ঘটনায় জালালাবাদ থানার ওসি আলমগীর  হোসেনকে প্রত্যাহার এবং এসআই আমিনুল ইসলাম ও জাকির হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। শিশু রাজন হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির কারণে এই শাস্তি  দেওয়া হয়। এ ছাড়া নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে আলোচিত ডিআইজি মিজানকেও প্রত্যাহার করা হয়।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) মো. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, অপরাধীকে পুলিশ সদস্য হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ২ লক্ষাধিক। এর মধ্য থেকে কতিপয় সদস্য নানা অপকর্মে জড়িয়ে বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করে এটা আমরা ভালোভাবে নিই না। যিনি অপরাধ করেন তাকে আমরা অপরাধী হিসেবেই ট্রিট করি এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করি।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, উল্লিখিত শাস্তির পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে ৭৮ হাজার পুলিশ সদস্যকে কৃত অপরাধ ছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছে। এদের বেশিরভাগেরই কর্তব্যচ্যুতিসহ নানা লঘু অভিযোগে বিভাগীয় শাস্তি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পুলিশের কোনো সদস্য কিংবা কর্মকর্তা ফৌজদারি অপরাধ করলে তাকে বাহিনী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মামলা দায়ের করে বিচারে সাজা নিশ্চিত করা হয়। ফৌজদারি অপরাধের বাইরে বাহিনীর নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গ করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি দেওয়া হয়। ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে মামলা দায়ের করে গ্রেফতার ও জেল হাজতে পাঠানো হয় এবং চাকরিচ্যুত করা হয়। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া সেলের এআইজি মো. সোহেল রানা বলেন, আমাদের সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, এর প্রভাব পড়ছে প্রতিটি  সেক্টরেই। মানুষ যখন প্রলুব্ধ হয় তখন অপরাধ করে। শারীরিক ও মানসিক কারণেও অপরাধ করে থাকে। এসব মৌলিক কারণেই অপরাধ করে মানুষ। তিনি বলেন, শুধু শাস্তি দিয়ে অপরাধ কমানো যাবে না।  যেসব কারণে অপরাধ সংঘটিত হয় সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পুলিশ বাহিনী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, পুলিশ বাহিনীতে নানা ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। অধর্তব্য অপরাধের জন্য লঘুদণ্ড এবং ধর্তব্য অপরাধের জন্য গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। লঘুদণ্ডপ্রাপ্তদের ইনক্রিমেন্ট, প্রমোশন, পোস্টিংসহ নানা ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। আর গুরুদণ্ডপ্রাপ্তদের বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়, জেল-জরিমানা ভোগ করতে হয় তাদের।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads