১০০ শিক্ষার্থীর তথ্য চায় সিআইডি

সংগৃহীত ছবি

অপরাধ

ঢাবির প্রশ্নফাঁস

১০০ শিক্ষার্থীর তথ্য চায় সিআইডি

  • ঢাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্নফাঁস, ডিজিটাল জালিয়াতি করে ভর্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সহায়তাকারী ১০০ শিক্ষার্থীর তথ্য চেয়েছে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত শাখা (সিআইডি)। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর এক চিঠিতে এসব শিক্ষার্থীর বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয় বলে জানিয়েছে সূত্র।

সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাশের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বলা হয়, শাহবাগ থানায় ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর হওয়া ২৬ নম্বর মামলার সূত্রে এজহারনামীয় এবং তদন্তে প্রাপ্ত গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রদত্ত ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের স্বার্থে সংযুক্তি তালিকা-১-এ উল্লিখিত শিক্ষার্থীদের তথ্য পাওয়া একান্ত প্রয়োজন।

সিআইডির চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা, শিক্ষাবর্ষ, ইউনিট, বিষয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল, সেমিস্টারভিত্তিক পরীক্ষার ফলাফল এবং পুনঃভর্তির বিস্তারিত। রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র জানায়, তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব বিভাগের শিক্ষার্থীদের তথ্য চাওয়া হয়েছেতাদের মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৩ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নয়জন, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের আটজন, অর্থনীতি বিভাগের পাঁচজন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের পাঁচজন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চারজন, আইন বিভাগের চারজন, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের চারজন, পদার্থবিদ্যা বিভাগের তিনজন, ফার্মেসি বিভাগের তিনজন, বাংলা বিভাগের তিনজন, বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব এবং সংস্কৃতি বিভাগের তিনজন, ফলিত রসায়ন বিভাগের দুইজন, ইতিহাস বিভাগের দুইজন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দুইজন, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের দুইজন, ফিন্যান্স বিভাগের দুইজন, মার্কেটিং বিভাগের দুইজন, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র বিভাগের দুইজন, স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের দুইজন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দুইজন এবং সংস্কৃতি বিভাগের দুইজন। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ বৈকল্য, অ্যাকাউন্টিং, ইংলিশ ফর আদার ল্যাঙ্গুয়েজ, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান এবং পালি বিভাগসহ আরো কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীর তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে একটি চিঠি এসেছে। সেখানে সিআইডি ভর্তি জালিয়াতি সংক্রান্ত ঘটনায় কিছু শিক্ষার্থীর বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।

এদিকে সিআইডির একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নফাঁস এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তি জালিয়াতির ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত ৪৬ জনসহ প্রায় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে সিআইডি। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, যাদের নাম গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসেছে এবং আমরা তদন্তে যাদের সন্দেহ করছি তাদের বিষয়ে জানতে চেয়েছি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads