সারা দেশ

রামগতিতে ভয়ংকর লোডশেডিং

জনজীবনে ভোগান্তি চরমে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

জাহিদ হাসান হৃদয়, রামগতি (লক্ষ্মীপুর):

রামগতি উপজেলায় গরমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সীমাহীন লোডশেডিং। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ ও ব্যবসায়ীরা। গত এক মাস ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে রামগতিবাসি।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না গ্রাহকরা। অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নষ্ট হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত জিনিসপত্র, কল-কারখানার মেশিন ও ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং অনেকটা বেড়েছে। এ ছাড়াও বন্যায় বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিং সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা লক্ষ্মীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতির উপজেলার এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে লক্ষ্মীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। সে হিসাবে লক্ষ্মীপুর জেলায় গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৫ লাখ, শুধু রামগতির উপজেলায় গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৭০ হাজার। যার জন্য বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৩৫ মেগাওয়াট। কিন্তু বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সরবারাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুর সদরেও একই চিত্র দেখা যায়, দিনে-রাতে মিলে প্রায় ১২ ঘণ্টার বেশি হচ্ছে লোডশেডিং। প্রতি দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর হচ্ছে এক থেকে দেড় ঘণ্টার লোডশেডিং। শহরমুখী এলাকাগুলোতে লোডশেডিং কিছুটা কম হলেও ভয়ংকর অবস্থা প্রত্যন্ত অঞ্চলের। যেখানে ২৪ ঘণ্টায় ৬ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পান না গ্রাহকরা। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে বয়স্ক ও শিশুদের। বাড়ছে মৌসুমি জ্বর-সর্দি ও অন্যান্য অসুস্থতা। দ্রুত লোডশেডিং বন্ধ করাসহ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে গরম আর অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘনঘন যাওয়া-আসা। বার বার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাইনি।

এদিকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা গুচ্ছগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী মো. নোমান বলেন, আজ (সোমবার) সারা দিনে অব্যাহত ছিল লোডশেডিং। সন্ধ্যার পর থেকে ৩ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ পেয়েছি মাত্র ২০ মিনিট। এত অসহ্য গরম আর লোডশেডিং মিলে অতিষ্ঠ জনজীবন। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে। বাড়িতে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ছেলেমেয়ে লেখাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গুচ্ছগ্রাম বাজার ব্যবসায়ীদের জন্য রাতে জেনারেটর ব্যবস্থা রয়েছে, যদি তা না থাকত তাহলে দুর্ভোগের শেষ থাকত না।

রামগতি উপজেলা মৌলবীবাজারের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। নতুন করে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। কিন্তু লোডশেডিং এত বেশি যা বলে বুঝানো যাবে না। শিশু, বৃদ্ধ সবাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে সেবাগ্রাম ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ভয়াবহ লোডশেডিং, যা বলে বোঝানো যাবে না। অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার রামগতিবাসি। ১২ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যায় ১৩ থেকে ১৪ বার। তিনি বলেন একদিকে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে এর মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস করতে খুবই অসুবিধা হয়। শুধু ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধা হয় এমন না, আমাদের শিক্ষকদেরও ক্লাস নিতে অনেক কষ্ট হয়। তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, ক্লাস করানো সম্ভব হয় না। ছাত্রছাত্রীদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়।

সেবাগ্রাম ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক সুলতানুর রহমান রিপন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমাদের এখানে গত এক মাস ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ের দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, এমনিতেই যে পরিমাণ গরম পড়ছে, তাতে আবার থাকছে না বিদ্যুৎ, এই যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের শিক্ষকদের ক্লাস নিতে সমস্যায় পড়তে হয়। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীরা এই গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

লক্ষ্মীপুরের পিডিবির প্রকৌশলী মো. রুবেল হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমাদের ৭০ হাজার গ্রাহকের জন্য পাচ্ছি মাত্র ১৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। যেখানে আমাদের চাহিদা রয়েছে ৪৫ মেগাওয়াট। তার ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে সেগুলো কাভার করে যা পারছি তা শিডিউল অনুযায়ী সরবরাহ করছি। তিনি বলেন, আমাদের দুটি পাওয়ার গ্রিড চালু হওয়ার কথা চলছে, একটি মন্নান নগর আরেকটি লক্ষ্মীপুরে। এই দুটি গ্রিড চালু হলে আমাদের সমস্যাটা অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে। তখন লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটা কমে আসবে।
এদিকে মতামত জানতে লক্ষ্মীপুরের পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads