ইকবাল হোসেন জীবন, (মিরসরাই) চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
করোনার কারণে কোনো প্রকার সূচি পরিবর্তন না হলে আগামী বছরের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ইউপি নির্বাচন হবার কথা মিরসরাইয়ে। ২০১৬ সালের মার্চে প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফায় জুনের পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছিল মিরসরাই উপজেলার সকল ইউনিয়য়ন পরিষদ ও পৌর নির্বাচন। করোনাকালীন ক্রান্তিকাল না হলে এতোদিনে ইউপি নির্বাচনী আমেজ বৃদ্ধি পেত ব্যাপকভাবে। চায়ের আড্ডা থেকে বটতলা হাটখোলা সর্বত্র এখনো কমবেশী আলোচনা চলছে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কে পাচ্ছে নৌকার মনোনয়ন। জনশ্রুতি ও নানাজনের নানা আলোচনায় ইতিমধ্যে উঠে আসছে নানা মন্তব্য।
ইউনিয়ন ক্রমানুসারে ১ নং করেরহাট ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন। গত নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে তীর পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসিম। এবারও তিনি মনোনয়ন যুদ্ধে যেতে পারেন বলে জন মুখে জানা গেছে। এই বিষয়ে তাদের দুজনেরই মন্তব্য আমাদের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যাকে মনোনয়ন দিবেন আমরা তাকেই মেনে নেবো। এছাড়া আর কোন প্রার্থী আছে কি না তা এখনো দৃশ্যমান নয়।
২ নং হিগুলী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন হারুন। এখানে বর্তমান সভাপতি গণমুখী নেতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোনা মিয়া ও সম্ভাব্য প্রার্থী বলে জানা গেছে। ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মকছুদ আহমদ চৌধুরী। বর্তমান চেয়ারম্যান এখানে সর্বতভাবে সুযোগ্য হলে ও ইউনিয়নের সর্বমহলের প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার রেজাউল করিমকে সকলেই চাইছে বলে জানা গেছে। তবে এই বিষয়ে করিম মাস্টার বলেন, আমার প্রিয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ ও রুহেল ভাই যাকেই চাইবেন তার নির্বাচনই আমরা করবো। ৪ নং ধূম ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হেভিওয়েট নেতা জাহাঙ্গীর ভূঞা। উপজেলা নেতা হিসেবে তিনি যদি ইউপি ছেড়ে দেন সেক্ষেত্রে আনিছুর রহমান এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
৫ নং ওচমানপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মফিজ সারেং শারিরীক অসুস্থতার জন্য নির্বাচন না ও করতে পারেন বলে জানিয়েছেন। এখানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উল্লাহ চৌধুরী, বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন । ৬নং ইছাখালী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা। তার পাশাপাশি এবার আরো আলোচনায় রয়েছেন আলোচিত তরুণ নেতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন। এছাড়া সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম পেয়ার এর নামও শোনা যাচ্ছে। ৭ নং কাটাছরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী, এছাড়া সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল বশর ও নুরুল্লাহ এর নাম আলোচিত। ৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবু ছুফিয়ান বিপ্লব। এখানে সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খোকা ও এবার প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। ৯ নং মিরসরাই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান হাজী এমরান উদ্দিন ইতিমধ্যে সততা, নিষ্ঠা ও কর্ম তৎপরতায় এলাকার সর্বশ্রেণীর মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। তিনি ছাড়াও এখানে শোনা যাচ্ছে ফারুক, সাইফুল্লাহ দিদার ও সামছুল আলম দিদারের নাম।
১০ নং মিঠানালা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান খায়রুল আলম এর এলাকায় সুনাম রয়েছে। এখানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে শোভন, তাহের ভূঞা ও শরীফ এর নাম। ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোছাইন মাষ্টার ইতিমধ্যে গণমুখী কাজে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এছাড়া আলোচনায় আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবকল্যান বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ভূঞা, সাবেক সভাপতি বেলাল ও আরিফ মঈনউদ্দিন। ১২ নং খৈয়াছরা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী । ন্যায় বিচার ও গণমুখী সামাজিক কার্যক্রমে তিনিই এই এলাকায় বিকল্পহীন বলে মনে করেন অনেকে। তবু ও আলোচনায় আছেন মাহফুজুল হক জুনু মেম্বার, সালাউদ্দিন ও মাহফুজ।
১৩ নং মায়ানী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান কবির নিজামী সকলভাবে সকলে শ্রদ্ধাভাজন যেমন ছিলেন, দিনে দিনে আরো যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে এখানে আরেক তরুণ বর্তমানে আলোচিত হয়ে উঠেছেন তিনি হলেন তারই প্যানেলের অনুজ হাজী মামুন । ১৪ নং হাইতকান্দি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। এটিই একমাত্র ইউনিয়ন যেখানে আর কোন সম্ভাব্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ। তিনি এলাকায় বহুমুখী সেবায় অনন্য বলে মন্তব্য সকলের। এখানে অপর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন টিপু, গিয়াস উদ্দিন ও মিঠু। ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী। এখানে আলোচনায় আছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল করিম। মীরসরাই পৌরসভার বর্তমান মেয়র গিয়াস উদ্দিন। নানা কর্মকান্ডে একচ্ছত্র বিকল্পহীন প্রার্থী হিসেবে নিজেকে গড় তুলেছেন ইতিমধ্যে। তবু ও আলোচনায় আছেন এম সিরাজউদ্দৌল্লাহ। বারইয়াহাট পৌরসভার বর্তমান মেয়র ভিপি নিজাম। রাজনৈতিক ত্যাগ ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য আলোচিত। এখানে আলোচনায় আছেন দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মকান্ডের অপর আলোচিত রেজাউল করিম খোকন।
সব মিলিয়ে নির্বাচনি তফসিলের দিনক্ষন ঘনিয়ে এলে এবং ভোট আরো কাছে এলে বাড়তে পারে প্রার্থীর সংখ্যা। পাশাপাশি দৌড়ঝাপ ও বাড়বে সকলের। মিরসরাইয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন বলেন আশা করছি সেশন শেষ হবার আগেই অর্থাৎ আগামী জুনের আগেই উক্ত নির্বাচন হয়ে যাবে। তবে পৌরসভাগুলো বছরের শেষ নাগাদ হতে পারে। তবু ও নির্বাচন কমিশন সময়সূচি ঘোষনা করলেই চূড়ান্ত ভাবে জানা যাবে ইউপি নির্বাচন ২০২১ এর সময়সূচি।





