মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রথিতযশা সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর ৩য় নামাজে জানাজা মঙ্গলবার বিকালে দাগনভূঞা আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রিয় সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জানাজায় ইমামতি করেন দাগনভূঞা বড় মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় জানাযাপূর্ব বক্তব্য রাখেন, দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল কবির রতন, জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ বাহার, মরহুমের ছোট ভাই ড. জাফর আহমদ, ঢাকাস্থ ফেনী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি তানভীর আলাদীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন বিকম।
উল্লেখ্য; ড. ফেরদৌস আহমদে কোরেশী সোমবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দাগনভূঞা উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামে ১৯৪২ সালের ১৪ জানুয়ারী জন্মগ্রহন করেন । ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফেনী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ৬০-এর দশকের মেধাবী ছাত্রনেতা ড. কোরেশী তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর তিনি ১৯৬১ সালে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ৬ দফা ও ১১ দফাভিত্তিক ছাত্র ও গণআন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তাঞ্চল থেকে মুক্তিযুদ্ধের মুখপাত্র হিসেবে দেশবাংলা পত্রিকা বের করেন ড. কোরেশী। ওই সময় থেকেই তিনি পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি গঠন করলে ওই দলের প্রথম যুগ্ম-মহাসচিবও ছিলেন ড. কোরেশী।
২০০৪ সালে তিনি বাংলাদেশের গ্রিন পার্টি গঠন করেন। ২০০৭ সালে তিনি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) দল গঠন করেন। আমৃত্যু তিনি ওই দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।
ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর মৃত্যুতে ফেনী জেলা বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শোক জানিয়েছেন।





