বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম ও তাঁর স্বামী মাহফুজ আনামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। এ সময় দুজনকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার সকালে রাজধানীর সূত্রাপুরে এ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এর আগে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোটের অভিষেক অনুষ্ঠান ও সংক্ষিপ্ত র্যালি হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। কিন্তু কুচক্রী মহল সব সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। সেই কুচক্রী মহল যারাই হোক তাদের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে সোচ্চার থাকব।
তিনি আরও বলেন, হিন্দু পরিবারের আইনটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এটার সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নিবে। সেখানে সরকার যদি মনে করে তাহলে তাদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবে। কেউ ষড়যন্ত্র করে সরকারকে বিব্রত করতে পারবে না।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, একসময় দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুরা নির্যাতিত হলেও প্রতিবাদের সাহস ছিল না। বর্তমান এই মহাজোট সরকারের কারণে হিন্দুরা রাজপথে নেমে নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে পেরেছে। বর্তমানে কিছু ব্যক্তি ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও হিন্দু পারিবারিক আইন সংস্কারের দাবি তুলেছে। এই দাবির মাধ্যমে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৈরির চেষ্টা করছে।
মহাজোটের সার্চ কমিটির প্রধান ডি. কে. সমির বলেন, হিন্দুরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। কিন্তু বর্তমানে একটি কুচক্রী মহল আওয়ামী লীগের সেই ভোটব্যাংক নষ্টের চেষ্টা করছে। তিনি হিন্দুদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় ও আইন করার দাবি জানান।
হিন্দু বৌদ্ধ খিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নকুল কুমার চন্দ্র বলেন, হিন্দু সমাজে যে আইন আছে তাতেই হিন্দুরা সন্তুষ্ট। কিন্ত মাহফুজ ও শাহীন আনামরা সেই আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। আসলে হিন্দুদের উপকার নয়, এর মাধ্যমে সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে তারা।
জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের নবনির্বাচিত সভাপতি শ্রী প্রদীপ শংকর বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে। মহাজোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও হরিচাঁদ ঠাকুরের সাধু শ্রী নির্মল ঠাকুর বলেন, যদি হিন্দু পারিবারিক আইন পরিবর্তন করতে হয় তাহলে সরকারকে হিন্দুদের সব সংগঠনের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই আইন যাতে পাস না হয় সে জন্য প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলন ও আমরণ অনশন করার হুশিয়ারি জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব এড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, আজ একটি দুষ্কৃতী মহল এই অনুষ্ঠান বন্ধ চেষ্টা চালিয়েছিল। এ ছাড়াও হিন্দুদের ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু চক্র। তার মধ্যে একটি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। সরকারের শেষ সময়ে হিন্দু সমাজকে সরকারের প্রতি বিষিয়ে দিতে তারা হিন্দু পারিবারিক আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।





