ভারতের মহারাষ্ট্রের গাড়চিরলী জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৬ নকশালকর্মী নিহত হয়েছে। তবে নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় এ অভিযানে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে। গত রোববার দেড় ঘণ্টা ধরে চালানো এ অভিযানে দুই নকশাল নেতাও রয়েছেন। গতকাল সোমবার দেশটির সরকারি সূত্রে এ অভিযানের বিষয়ে জানানো হয়।
খবরে বলা হয়, গত রোববার সকাল ১০টায় মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড়ের সীমানার গাড়চিরলী জেলার তারগাঁও গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। যৌথবাহিনীর এ অভিযানে অংশ নেয় গাড়চিরলী পুলিশের সি-৬০ কমান্ড বাহিনী ও দ্য সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) জওয়ানদের একটি অংশ। নিহতদের সংখ্যা জানিয়ে নকশাল নিয়ন্ত্রিত ওই এলাকার ডিআইজি অঙ্কুল সিনধে বলেছেন, বড় আকারের অভিযানের পরিকল্পনা কয়েকদিন আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। বনের একেবারে ভেতরে নকশাল বাহিনীর ঘাঁটি চারপাশ ঘিরে ফেলে হামলা চালানো হয়। ফলে তারা পাল্টা হামলা বা পালানোর খুব বেশি সুযোগ পায়নি। ৯০ মিনিটের অভিযানে ১৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, অভিযানে ২৫ নকশালকর্মী নিহত হন। নিহতদের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাড়চিরলী জেলার প্রধান কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও ওই সূত্র জানায়। নিহতদের মধ্যে শ্রিনু বাহিনীর নকশাল নেতা ৫১ বছর বয়সী ভিজেন্দর রামলু ও সাইনাথ বাহিনীর দেমেস আত্রম (৩৪) রয়েছেন।
আহেরির প্রানহিটার কার্যালয় থেকে এই নকশাল দমন অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুটি সি-৬০ কমান্ড বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন, ভাসুদেব মাদাবি ও মাধুকর নেতাম। যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযান স্থল থেকে একে রাইফেল, গুলি, বিস্ফোরক দ্রব্য, যোগাযোগ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, বেশ কিছু পেন ড্রাইভ, ল্যাপটপ ও মাওবাদী বই-পুস্তক উদ্ধার করা হয়েছে।