বিদেশ

বয়ঃসন্ধিতে এক-পঞ্চমাংশ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৪ এপ্রিল, ২০১৮

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বে বয়ঃসন্ধিতে প্রতি পাঁচজনে একজন মানসিক সমস্যায় ভোগে। যাদের বেশিরভাগই পরে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে অর্ধেকের সমস্যা শুরু হয় ১৪ বছর বয়সে, যা ১০ বছরের মাথায় ভয়াবহ আকার নেয়। যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার কিশোর-কিশোরীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশ কিশোরী এবং প্রতি ১০ কিশোরের মধ্যে ১ জন অবসাদে ভোগে। দরিদ্রদের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি।

এ বিষয়ে বিবিসিকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন ২৬ বছর বয়স্ক ব্রিটিশ শিক্ষক হাটি স্পারে। তার যখন মাত্র ১৬ বছর বয়স সে সময়ই তিনি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। হাটি জানান, ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তিনি মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। সবসময় মায়ের অসুস্থতা ও সেই সঙ্গে কারো মনোযোগ না পাওয়ায় ১৪ বছর বয়সেই তাকে বিষণ্নতা গ্রাস করে। এ সময় হাটির পাশে দাঁড়ান তার ডিজাইন ও প্রযুক্তি কোর্সের শিক্ষক। তিনি বলেন, সেই প্রথম আমি কাউকে আমার কথাগুলো জানাই। তিনি আমার সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তিনি আমাকে থামাননি, আমার কথার মাঝখানে কোনো কথা বলেননি, প্রশ্ন করেননি, আমি যেন অনেকটা নিজের সঙ্গেই নিজে কথা বলছিলাম। তিনি শুধু শুনে গেছেন। তার এই উদারতা আমার ভেতরে সাহস জুগিয়েছিল। বর্তমানে হাটি নিজেও ডিজাইন ও প্রযুক্তির কোর্সের শিক্ষক। তার লক্ষ্য, কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে বের করে আনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষণ্নতার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- সবসময় মন খারাপ, উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত থাকা। অসহায়বোধ, আশাহীনতায় ভোগা। আত্মবিশ্বাসের অভাব। অপরাধবোধ বা সব বিষয়ে নিজেকে দোষারোপ করা। অল্পেই কেঁদে ফেলা, খিটখিটে মেজাজ, কাউকে সহ্য না হওয়া। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা। আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা। এ কারণে সব স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads