সারা দেশ

পোস্টঅফিসে গচ্ছিত টাকা উঠাতে বিড়ম্বনায় শত শত গ্রাহক!

  • মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর, ২০২১

নিজের এ্যাকাউন্টে রাখা টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না অনেক গ্রাহক। এনিয়ে যত দিন পার হচ্ছে গ্রাহকদের মধ্যে টাকা না পাওয়ার হতাশা আরো বাড়ছে। টাকার জন্য দিনের পর দিন পোস্টঅফিসের দরজায় কড়া নাড়ছেন অনেকেই, ভোগান্তির শিকার হয়ে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন বয়স্ক থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী নারী-পুরুষ। যদিও পোস্ট অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলছেন এটি সাময়িক সমস্যা, পোস্ট অফিসের সকল কার্যক্রম অনলাইনে প্রক্রিয়াধীন থাকায় এ ধরণের সমস্যা হচ্ছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পোস্টঅফিসে গিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলা পোস্টঅফিস সুত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় মাসে বরাদ্দ প্রায় ১০০ থেকে ২০০ কোটি টাকা। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনে কার্যক্রম চালু না হওয়ায় টাকা জমা নেয়া বন্ধ থাকায় চাহিদা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪০০-৫০০ কোটি টাকা। এই ঘাটতির কারণেই গ্রাহকসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পোস্টঅফিস কর্মকর্তাদের। আবার এর কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকারও হচ্ছেন শত শত গ্রাহক।

আজ মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, শতাধিক নারী-পুরুষ তাদের গচ্ছিত টাকা উত্তোলন করতে পোস্টঅফিসে ভিড় জমায়। কিন্তু চাহিদানুযায়ী টাকা না থাকায় সকল গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছেন না পোস্টঅফিস কর্তৃপক্ষ। এতে অনেকেই উপজেলা পোস্টঅফিসের কর্মকর্তাদের দোষারোপ করলেও কর্মকর্তারা বলছেন তাদের কিছুই করার নেই। কিন্তু অনেক গ্রাহকই তাদের গচ্ছিত টাকা উত্তোলন করতে না পারায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে বলে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে।

ভাওড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সুইটি আক্তার বাংলাদেশের খবরের এই প্রতিবদেককে বলেন, মেয়ের বিয়ের টাকার জন্য ৫ মাস ধরে ঘুরতেছি। কিন্তু তারা শুধু বলেন, সামনের সপ্তাহে আসেন। একদিন পর আসেন এভাবে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছে, চিন্তায় আর পারছিনা। আমি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।

ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামের আরেক গ্রাহক পাপ্পু সিকদার বলেন, বিগত ৩ মাস যাবৎ টাকার জন্য ঘুরতেছি। দেই, দিবো, কাল আসেন বলে তারা টাকা দিচ্ছেনা। এভাবে আর কতোদিন?

এ ব্যাপারে উপজেলা পোস্ট মাস্টার আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, পোস্টঅফিসের সকল কাজ অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গত জুন মাস থেকে গ্রাহকদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা জমা বন্ধ হওয়ায় এই প্রথম এ ধরণের সমস্যা হচ্ছে। টাকা জমা নেয়া বন্ধ থাকলেও গ্রাহকসেবা দেয়ার কারণে চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছেনা। যেকারণে গ্রাহকরা অফিসে ভিড় জমাচ্ছেন। আমরা আমাদের চাহিদার কথা উল্লেখ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। টাকার বরাদ্দ বেশি দিলে ও অনলাইনে কার্যক্রম চালু হলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads