চারিদিকে বন্যার পানি, রাক্ষসী ধরলার ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ। পানি পেরিয়ে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। মসজিদটি লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের চর ফলিমারী এলাকায় অবস্থিত।
গত কয়েকদিনে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সম্প্রতি ধরলার পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে উঠায় আশেপাশের কয়েকশত বাড়ী ঘর বাড়ি তলিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারনে মসজিদটির মাঠে পানি প্রবেশ করেনি।
জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগ আগে স্থানীরা মসজিদটি নির্মাণ করেন। তখন ধরল নদী ছিল দেড় মাইল দূরে। কিন্তু বছরের পর বছর ভাঙতে ভাঙতে মসজিদটির প্রায় কাছে চলে এসেছে নদী। তবে চলতি বন্যা ও ভাঙনে মসজিদের চারপাশের গাছপালা, বসতভিটা, রাস্তাঘাট সব নদী গর্ভে বিলীন হলেও অলৌকিকভাবে মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায়।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আশেপাশের বাড়ী অর্থাৎ মসজিদের সামনের বাড়ীগুলোতে ৪ ফুট পর্যন্ত পানি উঠেছে কিন্তু অলৌকিকভাবে মসজিদের মাঠে কোন পানি উঠেনি।
এসময় মসজিদের মুসল্লিবৃন্দ জানান ,কয়েক দফায় নদী ভাঙ্গনের কবলে পরেও এখানো মসজিদটি ভাঙেনি। বাড়ীর ভিতর পানি উঠলেও মসজিদ মাঠে পানি উঠেনি। এলাকার মুসল্লিরা মসজিদটিতে শুক্রবারের জামাত ছাড়াও ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করেন।
মসজিদ থেকে ১০০ গজ পূর্ব দিকে সরকারের ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা কবলিত মানুষের আশ্রয়ের জন্য মুজিব কেল্লা নির্মাণের কাজ ষাট শতাংশের বেশী হওয়ার পর সেটির কাজ এখন বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, দ্রুত সময়ে মধ্যে বাধ নির্মাণ করা হলে হয়তো দুটি স্থাপনাই রক্ষা পাবে। আর এভাবে ভাঙন চললে আমাদের গ্রামে একটিমাত্র মসজিদ এটিও নদী গর্ভে বিলিন হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে ওই এলাকায় ৬ হাজার বালুর বস্তা ও স্থানীয় ঠিকাদারের পক্ষ থেকে ৩ হাজারসহ মোট ৯ হাজার বালুর বস্তা ফেলানো হয়েছে। সরকারী কোন বরাদ্দ না থাকায় আর কোন কাজ করা যায়নি। আর মুজিব কেল্লাটি রক্ষায় ২কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও বর্তমানে সেটি রক্ষার জন্য আট কোটি টাকার প্রয়োজন। তাই কোন সিন্ধান্ত হয়নি বলেও তিনি জানান।





