হাইকোর্টের নির্দেশ ও পুলিশের কঠোরতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বন্ধ রয়েছে ছোট যান চলাচল। এতে করে যাতায়াতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালে আগত শিশু, বৃদ্ধ রোগী ও স্কুল-কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা। দুর্ভোগ কমাতে বেশ কয়েকটি হাইয়েস মাইক্রোবাস লোকাল হিসেবে চলাচল করছে। অনেকেই এখন কাছের ষ্টেশনে যেতে মাইক্রোবাস ব্যবহার করছে।
জানা গেছে, দুই মাস আগে হাইকোর্টের এক নির্দেশনায় মহাসড়কে ছোট যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপরই হাইওয়ে পুলিশের কঠোরতায় মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের ৪৪ কিলোমিটার এলাকায় হিউম্যান হলার, ইমা, নছিমন, করিমন, লেগুনা, ভটভটি, ইজিবাইক ও সব ধরনের অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি কুমিল্লা-ফেনী রুটের যাত্রীদের আন্দোলনের কারণে ‘সি-কুইন’ নামের একটি সার্ভিস চালু করা হয়। এতে দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে। কিন্তু চৌদ্দগ্রাম বাজারের আশ-পাশ থেকে বয়স্ক ও অসুস্থ্য নারী-পুরুষ হাসপাতালে পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে। এছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীদের ভোগান্তিতো রয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি হাইয়েস মাইক্রোবাস রিজার্ভ ভাড়া বাদ দিয়ে লোকাল যাত্রী পরিবহন করছে।
এ প্রতিবেদককে সামনে পেয়ে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ডিমাতলী গ্রামের রৌশন আরা(৭৮), বিলকিছ বেগম(৩৮), বাতিসা ইউনিয়নের কুলাসার সকিনা বেগম(৪২) ও পৌর এলাকার চান্দিশকরা গ্রামের স্কুল ছাত্রী শারমিন আক্তার(১৬) বলেন, ‘মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি করে সরকারকে জানান। উর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা দেখুক, ছোট যান চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষ কত কষ্ট পাচ্ছে। তারাতো সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে কর্মস্থলে পৌঁছে-এ এলাকায় থাকলে বুঝতো মানুষ কিভাবে যাতায়াত করছে’।
সুমন নামের এক মাইক্রোচালক বলেন, ‘মহাসড়কের ছোট যান চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষের কষ্ট দেখে সহ্য হচ্ছে না। তাই মাইক্রোবাসের মালিককে বলে লোকাল হিসেবে চালানো শুরু করি। এতে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমেছে’।
এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুল হোসেন জানান, আমরা হাইকোর্টের নির্দেশে মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে ছোট গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। এতে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমেছে বলেও তিনি দাবি করেন।