গৌরনদীর ঐতিহ্যবাহী আল্লার মসজিদ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

গৌরনদীর ঐতিহ্যবাহী আল্লার মসজিদ

  • গৌরনদী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২০ অগাস্ট, ২০২১

গৌরনদী থানা সদর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পশ্চিম পাশে কসবায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী “আল্লার মসজিদ”। এ মসজিদের নির্মাণ বা নির্মাতা সম্পর্কে সঠিক কিছু জানা যায়নি। কারো কারো মতে, এ মসজিদ ছবি খাঁ নির্মাণ করেছেন। কেউ কেউ বলেন খানজাহান আলীর কথা।

আল্লার মসজিদটি বাগেরহাটের ৯ গম্বুজ ও খুলনার মসজিদ কুড়ের মতো ৯ গম্বুজ বিশিষ্ট। এটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বর্গাকারে নির্মিত এ মসজিটির দৈর্ঘ ও প্রস্থ ১১ দশমিক ৬৮ মিটার, দেয়ালগুলো ০২ দশমিক ২৮ মিটার চওড়া। মসজিদের সম্মুখ ভাগে ফুল ও অন্যান্য নানা নকশা। চার কোনে চারটি গোলাকার ট্যারেট আছে। ট্যারেটগুলোও কারুকার্যময়। মসজিদটির উল্লেখ্যযোগ্য বৈশিষ্ট হল এর কার্নিশগুলো বর্গাকার। মসজিদটির পূর্ব-উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে প্রবেশ পথ আছে। পশ্চিম দেয়ালে আছে তিনটি মেহরাব প্রধান মেহরাবটি বড় ও সুসজ্জিদ। মসজিদটির নির্মানও স্তাপত্য কৌশল পর্যবেক্ষনে অনুমিত যে, এটা পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নির্মিত। এটি দেখার জন্য প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু লোক আসেন।

স্থানীয় মুসল্লী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মসজিদের গম্বুজ থেকে তেল পরে। ওই তৈল নিয়ে অসুস্থ্য মানুষের শরীরে মাখলে সুস্থ হয়ে যায় এই বিশ্বাস থেকে অনেকে তেল নেন। গম্বুজের তেল সংগ্রহ করতে করতে গম্বুজগুলো ক্ষয় হয়ে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে। যে কারণে মসজিদ কর্তৃপক্ষ গম্বুজ রক্ষায় লোহার খাচা তৈরী করে দিয়েছেন যাতে কেউ গম্বুজগুলো স্পর্শ করতে না পারেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণের দায় গ্রহন করেন প্রত্নতত্ব বিভাগ। তারা একাধিক সংস্কারও করেছেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ দিনে সংস্কার হয়নি। এখন এর সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মসজিদ কমিটির সদস্যরা জানান।

মসজিদ কমিটির সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর জানান , মসজিদের দর্শনার্থীদের জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে জরুরী ভিত্তিতে সংসস্কার ও উন্নয়ন কাজ করার জন সরকারের প্রত্নতত্ব বিভাগ সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

=

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads