কুষ্টিয়ায় একটিমাত্র হূৎপিণ্ড ও যকৃৎ নিয়ে জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেওয়ার একদিন পর দুই মেয়েশিশু গতকাল বুধবার মারা গেছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে শিশুদুটির জন্ম হয়। এরপর তাদের স্কুনো ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জোড়া লাগা শিশুদুটির শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিক থাকলেও দুজনের শরীরে একটিমাত্র হূৎপিণ্ড ও যকৃৎ ছিল। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. তরুণ কান্তি ঘোষের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুদুটির জন্ম হয়। তাদের মা আরিফা খাতুন সুস্থ রয়েছেন।
ডা. তরুণ কান্তি বলেন, প্রায় এক মাস আগে জেলার কুমারখালী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আবু তালেবের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরিফা খাতুন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আসেন আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে। পরীক্ষা করার পর দেখা যায়, আরিফার পেটে জোড়া লাগা যজম শিশু রয়েছে। পরে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, শিশুদুটির শরীরে একটিমাত্র হূৎপিণ্ড ও যকৃৎ রয়েছে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরিফাকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একই ফল আসে। লাখে একজন মা এমন জোড়া লাগা শিশুর জন্ম দিয়ে থাকেন জানিয়ে ডা. তরুণ কান্তি ঘোষ বলেন, কুষ্টিয়ায় এ ধরনের অস্ত্রোপচার এটাই প্রথম।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আইয়ুব আলী বলেন, শিশুদুটির বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগা। তাদের শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আলাদা আলাদা হলেও হূৎপিণ্ড ও যকৃৎ একটি। এ কারণে তারা জন্মের পর ঠিকমতো শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছিল না। শিশুদুটিকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেও তারা সফল হননি।
শিশুটির বাবা আবু তালেব জানিয়েছেন, মারা যাওয়া জোড়া লাগা শিশুদুটির মরদেহ বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে।