তিনি নার্গিস। চলচ্চিত্রে যার শুরুটা হয়েছিল একজন নায়িকা হয়ে। পরে নায়িকা থেকে বহু চলচ্চিত্রে বোন, ভাবি এবং মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নার্গিসের ধারণা, তার সময় কালের অনেক প্রযোজক, পরিচালক নাটকে এবং চলচ্চিত্রে নেই বলে তিনিও খুব একটা ডাক পান না তার কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিচালকরা কিছু চরিত্রের জন্য তারই ওপর নির্ভর করেন। এমনই একটি চরিত্রের জন্য পরিচালক মান্নান শফিক নার্গিসকে নিয়ে একটি জনসচেতনতামূলক তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। কিশোরীদের পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গেল সপ্তাহে রাজধানীর অদূরে একটি তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। তথ্যচিত্রটি রচনা করেছেন বিটিভির মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ।
কিশোরীদের পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতামূলক এই তথ্যচিত্রে কাজ করা প্রসঙ্গে নার্গিস বলেন, ‘অনেকদিন পর একটি কাজ করেছি। আমাদের কিশোরীদের তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতেই এতে অভিনয় করেছি আমি। খুউব ভালো একটি কাজ হয়েছে। ধন্যবাদ বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষসহ নির্মাতা মান্নান শফিককে।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিটিভির নিজস্ব প্রযোজনায় তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে। শিগগিরই এটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার শুরু হবে। নার্গিসের সঙ্গে গল্পে গল্পে জানা যায় ছোটবেলা থেকেই তিনি মঞ্চে এবং টিভি নাটকে অভিনয় করেন। ছোটবেলায় কমার্শিয়াল স্টেজ শোগুলোতে তিনি অভিনয় করতেন। তার অভিনীত প্রথম মঞ্চনাটক ‘কুয়াশার কান্না’। এটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন আনিসুর রহমান। এরপর আরো বহু মঞ্চনাটকে তিনি অভিনয় করেছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘আয়না’ সিরিজে তিনি অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি ‘বউ কথা কও’, ‘হীরামন’-এ অভিনয় করেছেন।
নার্গিসের এক ছেলে বাঁধন ও এক মেয়ে তুলি। দুই সন্তান যখন ছোট তখনই স্বামীকে হারিয়েছেন নার্গিস। তাই অনেক কষ্টে দুই ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছেন তিনি। একজন অভিনেত্রী হিসেবে তিনি যেমন দর্শকের মন জয় করেছেন, ঠিক তেমনি মা হিসেবেও তিনি একজন গরবিনী মা। নার্গিস যখন স্কুলের ছাত্রী সেই সময়ে তারই বড় বোন অভিনেত্রী আনোয়ারাকে খান আতাঊর রহমান তার ‘ঝড়ের পাখি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নিতে এসেছিলেন। কিন্তু আনোয়ারা তখন এতই ব্যস্ত ছিলেন যে খান আতার ইচ্ছেমতো তারিখে শিডিউল দিতে পারেননি। আর তাই তখন তারই ছোট বোন নার্গিসকে নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। শুরু হয় ‘ঝড়ের পাখি’ দিয়ে নায়িকা নার্গিসের পথচলা।
১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান প্রযোজিত ‘ঝড়ের পাখি’ মুক্তি পায়। যদিও এটি নির্মাণ করেছিলেন খান আতা নিজে, কিন্তু নাম যায় সিবি জামানের। ‘ঝড়ের পাখি’তে অভিনয়ের সময়ই খান আতা হোসনে আরা নাম থেকে নার্গিস নামকরণ করেন। তবে ই আর খান তার নাম দিয়েছিলেন শবনম ক্যালী। ‘ঝড়ের পাখি’র পর নার্গিস ‘অবদান’, ‘গুনাহগার’, ‘চম্পা চামেলী’,‘ভাই আমার ভাই’, ‘আদালত’, ‘নোলক’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রভান’, ‘রংবেরং’, ‘মায়ার বাঁধন’, ‘সারেং বউ’, ‘স্মৃতি তুমি বেদনা’, ‘কলঙ্কিনী’, ‘রামের সুমতি’, ‘সংঘর্ষ’, ‘পিঞ্জর’সহ আরো বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।





