মুক্তমত

করোনার পরবর্তী ঢেউ কতটা ভয়াবহ হতে পারে

  • প্রকাশিত ৩ জুলাই, ২০২১

কে এম মাসুম বিল্লাহ

 

করোনা গত বছর ইতালি স্পেনসহ ইউরোপের অনেক দেশে যেন তার সর্বোচ্চ তাণ্ডব চালায়। করোনার থাবায় অসহায় হয়ে পড়া ইউরোপীয় দেশগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে, তবে তার আগেই ঝরে যায় হাজার হাজার তাজা প্রাণ। ধাপে ধাপে আমেরিকা, ব্রাজিলের মতো দেশগুলোও মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল করোনার থাবায়। সর্বশেষ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত। হঠাৎ করেই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায় ভারতে। জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা, দিনে ৪ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় করোনায়। মৃত্যুর সংখ্যা যেন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেল। অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে থাকে আক্রান্ত রোগীরা। হাসপাতালের বেডে কিংবা রাস্তার পাশে করোনা রোগীদের আর্তচিৎকারের এমন চিত্র সবাইকে আবেগ আপ্লুত করে তোলে।

ভারত পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে সংক্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে সবাই চিন্তিত ছিলেন। ভারতের ট্রিপল মিউটেন্ট ভ্যারিয়েন্ট অনেক বেশি সক্রিয় হওয়ায় এর সংক্রমণে আক্রান্তের ঝুঁকি ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির আশংকা তো ছিলই। সরকারের তরফ থেকে ভারতের সঙ্গে সকল স্থলবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়। যদিও পরে আবার খুলে দেয়া হয়েছিল। অবশ্য ততদিনে বাংলাদেশেও সীমান্ত জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। হঠাৎ করে সীমান্ত জেলাগুলোতে আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ায় শংকা আরও বৃদ্ধি পায়।  সীমান্ত জেলাগুলোতে আক্রান্তের হার সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রায় শতকরা ৬০ থেকে ৬৫ ভাগে পৌঁছায়। সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে আশপাশের জেলাগুলোতেও। বর্তমানে করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে আছে দেশের অধিকাংশ জেলা।

বিশেষজ্ঞরা ভারতীয় ট্রিপল মিউটেন্ট ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিভিন্ন সময় শংকা প্রকাশ করেছিলেন। দেশে যে পরিমাণে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে, তাতে করে আশংকা সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে গত ২৭ জুন যখন মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ ১১৯ জনে পৌঁছেছে। ভারতের করোনা পরিস্থিতিও হঠাৎ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, তাই আমরা যদি এখনই সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করি, তবে আমাদেরকে হয়তো আরো করুণ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এমনিতেই করোনা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে করোনার বড় কোনো ঢেউ আসলে আমাদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ হবে তা বলা কঠিন। এখনো মাস্ক ব্যবহারে রয়েছে সাধারণের অনীহা। এছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানছে না অধিকাংশ মানুষ। তাই করোনার বড় কোনো ঢেউ আসলে আমাদের মতো এত ঘনবসতিপূর্ণ দেশে তা ভয়াবহ রূপ নেবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন করোনার ঢেউ মোকাবিলায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে, সেখানে আমাদের মতো দেশে, যেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা, সেখানে করোনার বর্তমান এই মহাসংকট প্রকট আকার ধারণ করলে তা মোকাবিলা করা সত্যিকার অর্থেই অসম্ভব।

করোনা পরিস্থিতির অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৪ দিনের কমপ্লিট লকডাউনের সুপারিশ করেছে করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি। করোনার প্রভাব সকল সেক্টরেই বিদ্যমান। বিশেষ করে লকডাউন কিংবা শাটডাউনের ঘোষণায় প্রান্তিক মানুষগুলোর ভোগান্তির শেষ থাকে না। খেটে খাওয়া মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। এছাড়াও বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও বিভিন্ন সমস্যার তৈরি করে। তথাপি দেশ বাঁচাতে শুরু হয়েছে সর্বাত্মক লকডাইন। সেক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের মানুষ ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বকেয়া রাখা, ছাঁটাই করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নরজদারি কামনা করি। এছাড়াও পাবলিক প্লেসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও কঠোর হতে হবে। সর্বোপরি সবার সচেতনতা ছাড়া করোনার পরবর্তী ধাপ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাবে আমাদের জন্য।

 

লেখক : ব্যাংক কর্মকর্তা

দুমকি, পটুয়াখালী

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads