একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি সংঘর্ষ, ব্যাটে বাক্স ছিনতাই, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট এর গাড়ী ভাংচুর, বসত বাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৫০জন। এদের মধ্যে চারজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আজ রোববার সকাল ৮টা থেকেই ৫টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এর মধ্যে সকাল ১১টার দিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৭টি ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা। একই উপজেলার রামপচন্দ্রপুর বাজারে বিএনপি সমর্থিত এক ব্যবসায়ীর দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে উচ্ছৃঙ্খল যুবকরা। এছাড়াও হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কমপক্ষে ৫০জন আহত হয়। এদের মধ্যে ২জন সংবাদ কর্মীও রয়েছে।
চাঁদপুর-১ আসনে কচুয়ার কড়ইয়া ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা জোবায়েরের গাড়ীতে হামলা করে দূর্বৃত্তরা। এ সময় তারা তার গাড়ী ভাংচুর করে। এ ঘটনায় গাড়ীতে থাকা প্রার্থীসহ ৬জন আহত হয়েছে। আহতদের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হাইমচর উপজেলায় উত্তর আলগী ইউনিয়নের সৈয়াল বাড়ীর সামনে বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকরা জড়ো হলে পুলিশ ধাওয়া করে। এ সময় অপরদিক থেকে বেশী কিছু স্থানীয় মানুষ পুলিশের গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা স্থানীয় ইউপি সদস্য সফিক ও তার ভাই আব্দুল মান্নান আখন্দের ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। একই সময় সফিকের বাগিনার মুদি দোকানও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
অপরদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ইচুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ী ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ বিএনপির সমর্থকরা। পরে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে ধাওয়া করলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে দুপুর থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ, চাঁদপুর-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তারা নির্বাচন বর্জন করেছেন।





