নিজ নিজ দফতরে যোগদান করছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর একে একে সচিবালয়ে আসেন তারা। ফুলের তোড়া, মিষ্টি নিয়ে নিজ নিজ দফতরে মন্ত্রীদের বরণ করে নেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশবাসীর সহায়তা চান নতুন মন্ত্রীরা। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের অঙ্গীকারের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। প্রয়োজনে প্রশাসনে পরিবর্তন আনার কথাও বলেছেন মন্ত্রীরা।
এর আগে নতুন মন্ত্রীদের স্বাগত জানাতে ঝকঝকে করে তোলা হয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। পুরনো জঞ্জাল ছাপ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় মন্ত্রীদের বসার কক্ষ। মঙ্গলবার সকাল ৯টার আগেই সচিবালয়ে এসে পৌঁছান বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব থেকে শুরু করে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। সকালেই নতুন মন্ত্রীদের দফতরে নামফলকও লাগানো হয়। আজ সকাল ১০টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নতুন মন্ত্রীরা। এরপর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে সেখান থেকে মন্ত্রীরা নিজ নিজ দফতরে ফেরেন।
সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রীদের শুভেচ্ছা জানাতে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণত মন্ত্রীদের প্রথম দিনে সচিবালয়ে এত ভিড় থাকে না। কিন্তু গতকাল প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় ছিল লোকে লোকারণ্য। এর ফলে গাড়িরও জট লাগে সচিবালয়ে। এবার অন্যবারের তুলনায় মন্ত্রিসভার চিত্র একটু ভিন্ন। আগেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় কে কোন মন্ত্রী হচ্ছেন। অন্য সময় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন তা জানার জন্য অপেক্ষা থাকলেও এবার তা হয়নি। ফলে প্রত্যেক দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নিজেদের মতো প্রস্তুতি নিতে পেরেছেন। দীর্ঘ এক দিনের প্রস্তুতির ফলে মন্ত্রীদের বরণও হয়েছে সুন্দর ও গোছানোভাবে।
২০০৯-এর মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ডা. দীপু মনি এবার শিক্ষামন্ত্রীর ভার নিয়েছেন। তার সঙ্গে আছেন উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গতকাল দুপুর পৌনে ১টার দিকে তারা মন্ত্রণালয়ে আসেন। এরপর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় শিক্ষাবিট রিপোর্টারদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টাস এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ইরাব) মন্ত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপরে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুজনেই জানান, অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করবেন তারা। মন্ত্রণালয়ের কাজ বুঝে নিতে ৩-৪ দিন সময় চেয়ে নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, গত ১০ বছর সরকার যে উন্নয়ন করেছে তা অব্যাহত থাকবে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে যা যা করা প্রয়োজন তা-ই করা হবে। এক্ষেত্রে আমার মন্ত্রণালয়ের সহকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা খুবই প্রয়োজন হবে। আজ আর বেশি কিছু বলবো না। কাজ বুঝে নিতে আমাদের ৩-৪ দিন সময় দিন।স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা’ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও তাদের দরকার। দীপু মনি বলেন, আমরা দুজনেই সমালোচনাকে অবশ্যই স্বাগত জানাব। কোথাও আপনাদের পরামর্শ থাকলে নিশ্চয় আমাদেরকে জানাবেন, আমরা সেগুলোকে সর্বোত্তম বিবেচনার মধ্যে নেব।
শিক্ষামন্ত্রী যখন কথা বলছিলেন, তখন তাঁর পাশে বসা ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেছেন, এটা ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব। আমরা সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করব। এই অঙ্গীকার করব।
দেশের জনগণকে নিরাপত্তা দেয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানান দ্বিতীয় মেয়াদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সুশাসন নিশ্চিত করা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন প্রথমবার দায়িত্ব হওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর দেশের অবকাঠামো খাতে উন্নয়নে চমক থাকবে। দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সব নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও জানালেন, সুশাসনের জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হবে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী থাকা ড. আব্দুর রাজ্জাক এবার পেয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তিনি সচিবালয়ে প্রথমদিন অফিসে এসে বলেছেন, বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক ও বাণিজ্যিক করতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্র ও গণমাধ্যমের সমন্বয় থাকলে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায় বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী ডা. হাছান মাহমুদ গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে বলেছেন, সাংবাদিকদের কোনো অভিযোগ পেলে তা সমাধানের পদক্ষেপ নেব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আজ দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন। আমিও আমার জীবনের চ্যালেঞ্জ রেখে প্রতিটি কাজ করছি। বাংলাদেশে গণমাধ্যমের বিকাশ ঘটিয়েছেন শেখ হাসিনা। অনলাইন গণমাধ্যমের বিকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশ এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ঘটেছে। হাছান মাহমুদ বলেন, গত সোমবার শপথ নেওয়ার পর অনেক সাংবাদিক বন্ধুরা প্রশ্ন করেছিলেন, অনেকগুলো ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম তৈরি হয়েছে। তারা অনেক সময় ভুল সংবাদ পরিবেশন করে। এতে অনেকের চরিত্র হননের ঘটনাও ঘটে। বাংলাদেশে সামপ্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক হারে ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। এই সুযোগে তৈরি হয়েছে অনেক ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম, যারা ফেইসবুকে বিভিন্ন ‘মনগড়া’ খবরও ছড়াচ্ছে। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে ১০০ শয্যার ক্যান্সার হাসপাতাল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সব মেডিকেল কলেজের কাজ শেষ করা হবে। শেষ করা হবে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া। মন্ত্রী হিসেবে প্রথমদিন সুখকর ছিল না বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সীর। সকালে প্রথমে সচিবালয়ে এসেই পোশাক শ্রমিকদের বিষয় নিয়ে পড়েন। বিকেলে পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।
কবিতা পড়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে বরণ করা হয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে। ‘গেঁথেছি মোরা বিজয়ের মালা/পরাব তব গলে/বিজয়ের বেশে পরবেন তা মোদের অশ্রুজলে। আপনার প্রেরণায় চলেছি আমরা সকলে একসাথে/আপনার আশীর্বাদ আমাদের সর্বদা পাথেয়। আপনার নেতৃত্বে, আপনার মহাপরিকল্পনায়, আমরা সব সময় এগিয়ে ছিলাম অন্যের তুলনায়। নির্ভিকচিত্তে আমাদের অগ্রসর করিয়াছেন শুধু সম্মুখ পথে/তাই, আবারও আপনার নেতৃত্বে আগামীতেও চলব আমরা দুর্বার গতিতে।’ বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাকসুদা খাতুন স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিমন্ত্রীকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় অনেকটাই নির্ভার এ মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। শপথ নেওয়ার পরদিন গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজের দফতরে এসে ‘ভালো কিছু’ করার প্রত্যয় জানানোর পাশাপাশি অতীতের ‘ভুল-ত্রুটি’ শুধরে দক্ষ জনপ্রশাসন গড়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি। সচিবালয়ে আসার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফরহাদ হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ বরণ করে নেন নতুন প্রতিমন্ত্রীকে। নবনিযুক্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেছেন, বিমান ও বিমানবন্দর একটি দেশের ড্রয়িং রুম ও গেটওয়ে, তাই এ দুটোকে দৃষ্টিনন্দন ও পরিপাটি করে তুলতে এবং বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের বিকাশে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মন্ত্রীর কার্যদিবসে দুপুরে সচিবালয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিমান ও পর্যটন সচিব মহিবুল হক। বিমানের নতুন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রায় এক কোটি প্রবাসী জাতীয় পতাকাবাহী বিমানে যাতায়াত করতে চান। বিমান কর্তৃপক্ষকে তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এবং বিদেশমুখী পর্যটকদের দেশমুখী করতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, এটা নতুন সরকার। নতুন মেয়াদে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ উদযাপন করা হবে। সামনে এখন এ দুটি বিষয়ই রয়েছে। এছাড়া, তিনি বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে ভালো সেবা দিতেই হবে। এতে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগে যান তিনি। সেখানে বিভাগের সচিবসহ অন্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন মন্ত্রী।
মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে সদ্য শপথ নেওয়া প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই চমক দিয়েছেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে তিনি দুটি ছবি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশন ‘বাইকে চড়ে প্রথম দিন অফিসে...’। গতকাল দুপুর ২টার কিছু পরে পোস্ট করা ছবিতে তিনি বাইকের পেছনে বসা। দুটি ছবিতেই তাকে হেলমেট ছাড়া দেখা গেলেও হেলমেটসহ আরেকটি ছবি দেওয়া হয়েছে। পলকের দুটি ছবিতে হেলমেট পরা না থাকায় পোস্টে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক সমালোচনার মধ্যে একজন লেখেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না। মহামান্য মন্ত্রী সাহেব, পরের বার দয়া করে হেলমেট পরবেন। দুর্ঘটনা আপনারও হতে পারে।’
দুর্নীতি ও ফাঁকফোকর বন্ধ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আধুনিক ও মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।
নবনিযুক্ত প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, প্রবাসীদের কল্যাণে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। মঙ্গলবার বিকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। এসময় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। নতুন প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতায় সমন্বিত উদ্যোগে প্রবাসীদের কল্যাণে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের রেমিটেন্সের ভূমিকা অপরিসীম উল্লেখ করে ইমরান আহমদ বলেন, রেমিটেন্স বৃদ্ধির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সেই অনুযায়ী তিনি রেলকেও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রেলভবনে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত পরিচিতি সভায় এ কথা বলেন নতুন রেলপথ মন্ত্রী। এ সময় রেলের চলমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে কাজ করবেন বলে জানান তিনি। রেলপথ মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সবাই কাজ করুন। সবাই দোয়া করেন আমিও যাতে সততা ও স্বচ্ছতা ধরে রাখতে পারি। নিজের ভেতর যাতে কোনো অহংকার চলে না আসে। মঙ্গলবার দুপুরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি বলেন এটা অনেক বড় মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় অনেক সেনসেটিভ জায়গা। কারণ দুই টাকা দাম বাড়লেও দোষ, আবার দুই টাকা দাম কমলেও দোষ। সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, আমি তিল তিল করে আমার রাজনীতিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিয়ে শুরু করে এই পর্যায়ে উঠে এসেছি। সুতরাং আমার অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও আছে। তিনি বলেন, আজকে আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই চালের দাম বেড়েছে। চালের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রতি জেলার চাল মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসতে চাই। এ সময় মন্ত্রী আগামী ১০ তারিখ সবার সঙ্গে বৈঠকে বসার ঘোষণা দিয়ে বলেন যাদের কারণে চালের দাম উঠানামা করে তাদের বৈঠকে ডাকা হবে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের কোথায় কি হয় সবকিছু সম্পর্কে জানতে চাই। সব ফাইল সম্পর্কে জানতে চাই। অতীতে এই মন্ত্রণালয় কিভাবে চলেছে তা বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে এখন থেকে আমরা কিভাবে চালাবো সেটা।
সদ্য বিদায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, বিদায় অনেক মধুর এবং কষ্টের। তবে আমি প্রথমেই যিনি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তাকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। ডা. এনামুর রহমান আমার খুব কাছের ছোট ভাই। ও আমার চেয়ে ভাল পারবে। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রীকে দায়িত্ব বুঝে দিতে এসে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নতুন দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, আমাদের সাবেক মন্ত্রী মায়া ভাই অনেক বেশি সাহসী একজন মানুষ। তিনি বলেন, আমার অনেক বেশি ভাল লাগছে অনেক কষ্টে তিনি এই মন্ত্রণালয়কে সাজিয়েছেন। আমি মায়া ভাইকে বলতে চাই, আমি আপনার কাছে যাব এবং সহযোগিতা চাইবো।
দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিনই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানালেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের জায়গায় শক্তিশালী অবস্থানে বিশ্বাস করি। কেবিনেটের সদস্য হিসেবে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স থাকবে। তবে গৎবাঁধা অনেক অভিযোগ কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হয় না। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ উত্থাপিত হলে শুধু সমাধান নয় যারা সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব এবং সেটা অবশ্যই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে। আমি আইন পেশায় আসার আগে সংবাদ মাধ্যমে ছিলাম। সংবাদ মাধ্যমের জন্য প্রচন্ড ভালোবাসা আমার রয়েছে। আমাদের কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে ধরিয়ে দেবেন, আমরা সংশোধন করার চেষ্টা করব।