‘ডাবা হুক্কা’ বানিয়ে জীবন চলে শহর আলীর

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

‘ডাবা হুক্কা’ বানিয়ে জীবন চলে শহর আলীর

  • এস এম আকাশ, পিরোজপুর 
  • প্রকাশিত ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

নারকেলের খোল দিয়ে ‘ডাবা হুক্কা’ বানিয়ে গত ত্রিশ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে হাট করছেন শহর আলি। নৌকা করে হুক্কা তৈরির উপকরণাধি নিয়ে আজ এ হাটে তো কাল অন্য হাটে ছুটে চলেন শহর আলী(৬৮)। হাটে বসে ক্রেতাদের পছন্দমত হুক্কা বানিয়ে তিনি। এভাবেই অতিক্রম করেছেন জীবনের ত্রিশটি বছর।

গোপালগঞ্জ থানার দিঘিরপুর গ্রাম থেকে নৌকা করে ‘ডাবা হুক্কা’ বিক্রি করতে চলে আসেন পিরোজপুরের স্বরুপকাঠীর সারেংকাঠি ইউনিয়নের করফা বাজার হাটে।

শহর আলী বলেন, গত ত্রিশ বছর ধরে নারকেলের খোল আর কাঠ থেকে ‘কুন’ বানিয়ে নৌকায় করে ঘুরে ঘুরে হুক্কা বানাই। প্রতিটি হুক্কা ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিটি হুক্কায় ৪০/৫০ টাকা লাভ থাকে। এখন আর আগেরমত মানুষ হুক্কা কেনেন না। আধুনিক যুগের মানুষ এখন হুক্কা টানতে অভ্যস্ত না, পছন্দও করে না। সবাই এখন বিড়ি, সিগারেট টানে। তবে বিড়ি, সিগারেটে ধুমপায়ীদের যে পরিমানে ক্ষতি হয়, হুক্কা টানলে তার সিকি ভাগও শরীরের ক্ষতি হয় না। হুক্কা কারিগর শহর আলী আরো বলেন, কোন কোন হাটে কেউ হুক্কার দাম জিজ্ঞাস করতেও চায় না। বেশির ভাগ লোকই আসে কৌতুহলী হয়ে হুক্কা দেখতে। দর দাম চলে যায়। তবুও হুক্কা বানিয়ে যা রোজগার হয় তা দিয়ে কোন ভাবে জীবন চলে।

করফা বাজারের ব্যবসায়ী খলিল বলেন, শহর আলি প্রতি হাটেই হুক্কা বিক্রি করতে ছুটে আসেন। তবে তেমন একটা হুক্কা চলেনা। সবাই তার সাথে মজা করেন।

তবে ধুমপানের জনপ্রিয় এই মাধ্যম হুক্কা একসময় ছিল গ্রাম বাংলার বিনোদন, আতিতেয়তা, বন্ধুত্ব, সম্প্রীতির প্রতীক। সে সময় ধনী-গরিব প্রতিটি বাড়িতেই ছিল হুক্কার প্রচলন। আজ থেকে এক দুই দশক আগেও গ্রাম-গঞ্জে ধুমপায়ীরা হুক্কার মাধ্যমে নেশায় অভ্যস্ত ছিল। পুরুষের পাশাপাশি বয়স্ক নারী এবং ছেলে মেয়েরাও হুক্কার মাধ্যমে ধুমপান করত। অনেকে শখের বশেও হুক্কায় দিত আয়েশি টান। এছাড়া নাটক, সিনেমায় অভিনয়ে ধনীদের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পিতলের তৈরি ‘হুক্কা’ আর গরিবদের জন্য নারিকেলের খোল দিয়ে তৈরি ব্যবহার হতো ‘ডাবা’ হুক্কা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads