হ্যাঁ, আমরাও পারি

সংগৃহীত ছবি

সম্পাদকীয়

হ্যাঁ, আমরাও পারি

  • আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া
  • প্রকাশিত ২৯ মে, ২০২১

এই তো সেদিনের কথা-৪ মে, মাত্র ২৪ দিন আগের করুণ ইতিহাস। আমাদের টাইগাররা ফিরলেন শ্রীলঙ্কা হতে, দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলে। ভাগ্য বিপর্যয়ের কারণে ১-০-তে হারতে  হয়েছিল। তাই পরাজিত হওয়ার কারণে নীরবে-নিভৃতে ফিরলেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কেউ সেখানে ছিলেন না কোনো পুষ্পস্তবক নিয়ে। এমনকি একটি রজনিগন্ধার স্টিক নিয়েও কোনো ক্রিকেটভক্তকে দেখা যায়নি বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল লাউঞ্জে। আহত চিত্তে নীরবে-নিভৃতে যে যার বাড়িতে চলে গেলেন টাইগাররা।

এর পরপরই শুরু হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় গালমন্দের পালা। যাদের চৌদ্দগোষ্ঠীতে কেউ ক্রিকেট খেলেনি কিংবা জীবনে একটিবারের মতোও ক্রিকেট বল স্পর্শ করে দেখেনি, যারা ফাস্ট বল ও স্পিনের মধ্যে পার্থক্য বোঝে না, রিভার্স সুইপ কী তা জানে না-তারাই রাতারাতি হয়ে গেলেন ক্রিকেটবোদ্ধা। ঝড় তুললেন কড়া সমালোচনার-এদের (টাইগারদের) কেন শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হলো ফাইভ স্টার হোটেলে থেকে শপিং করার জন্য-আসলে এদের গায়ে চর্বি জমেছে। অহংকার এসে এদের দেমাগী করে দিয়েছে। এদের খেলার প্রতি একাগ্রতা নেই। এমনকি কেউ কেউ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও টেনে আনলেন। প্রধানমন্ত্রীই এদের মাথা খেয়েছেন, অহংকারী বানিয়েছেন। একটি ম্যাচ জিতলেই দামি বাড়ি-গাড়ি, আবাসিক প্লট, রাজকীয় সংবর্ধনা আরো কত কি। অনেকে আবার দুষলেন বিসিসিআইকে। তাদের দুর্নীতি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কাদা ছোড়াছুড়ি আমাদের ক্রিকেটের বারোটা বাজিয়েছে। আসলে এই স্বঘোষিত ক্রিকেটবোদ্ধারা জানেন না ক্রিকেট আসলে একটি ‘অম্ল-মধুর’ অনিশ্চয়তার গেম। অন্তত হাজারখানেকের ওপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলা হয়েছে, যার ফলাফল পেতে সর্বশেষ বলটির দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছে। এ পর্যন্ত রেকর্ড অনুযায়ী টেস্ট ম্যাচে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড হলো-নিউজিল্যান্ড-২৬, সাউথ আফ্রিকা-৩০, অস্ট্রেলিয়া-৩৬, ভারত-৩৬, আয়ারল্যান্ড-৩৮, নিউজিল্যান্ড-৪২। অন্যদিকে সর্বনিম্ন রানের একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের রেকর্ড হলো-জিম্বাবুয়ে-৩৫, ইউএসএ-৩৫, কানাডা-৩৬, শ্রীলঙ্কা-৩৮, পাকিস্তান-৪৩, ভারত-৫৪, ওয়েস্ট ইন্ডিজ-৫৪। আমাদের পরম সৌভাগ্য, বাংলাদেশের টাইগারদের এহেন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়নি। মান-ইজ্জত নিয়েই টাইগাররা মাঠ ছেড়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকে।

ক্রিকেট খেলা মানেই অনিশ্চিত হার-জিতের খেলা। আমাদের টিম এ মাসের প্রথম দিকে শ্রীলঙ্কার সাথে দুই ম্যাচের যে টেস্ট ম্যাচ খেলেছে, তা যারা স্বচক্ষে টিভির পর্দায় দেখেছেন এবং বিশ্লেষণ করতে সফল হয়েছেন ফলাফল, তারা বুঝতে পারবেন কেবল ভাগ্য আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে, বিট্রে করেছে। তা না হলে টাইগাররা খারাপ খেলেনি।

একটি কথা আছে-টিট ফর ট্যাট। এবার সিংহদের ধাওয়া খাওয়া টাইগাররাও বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাদের পারফরম্যান্স কত উচ্চ মাপের। তারা গাঁ ছাড়া দিয়ে খেলে তৃতীয় ম্যাচে হেরে গেছে। তা সত্বেও ২-১ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। শুধু তাই নয়, তামিম ব্রিগেড এই গুরুত্বপূর্ণ জয়লাভের মধ্য দিয়ে পাঁচ জয়ে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি বিশ্বকাপ ওয়ানডে সুপার লিগের শীর্ষে উঠে এসেছে। আর ৪০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পড়ে রইল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। আজ বহু আকাঙ্ক্ষিত ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি আমাদের দোরগোড়ায়। তাই বিশ্ব দেখুক, বীর বাঙালিরা কি না করতে পারে। বিশ্বকাপ আমাদের হাতছানি দিচ্ছে। এটা কেবল এখন সময় ও দিনক্ষণের বিষয়। দেখুক বীর বাঙালি, দেখুক গোটা বিশ্ব, দেখুক ক্রিকেটপ্রেমীরা-হ্যাঁ, আমরাও পারি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads