হাওরে হবে উড়াল সড়ক

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

হাওরে হবে উড়াল সড়ক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৪ নভেম্বর, ২০২১

হাওর অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন এবং পণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকায় ব্যয়ে ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

গতকাল মঙ্গলবার একনেক সভায় এ অনুমোদ দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, সমুদ্রবন্দর, যোগাযোগ অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কক্সবাজারের মাতারবাড়ীকে অর্থনৈতিক হাব বা কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করছে সরকার। বিভিন্ন সংস্থার এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করতে অঞ্চলটিতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক প্রধান শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। একনেকের অন্য সদস্যরা শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্র থেকে সভায় অংশ নেন। একনেকের সভায় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণবিষয়ক একটি প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন হয়। এ প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল ইসলাম। এ সভায় মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া মাথাপিছু আয় ও মোট জিডিপিসহ সব তথ্য উপস্থাপন করা হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী প্রকল্পটি অনুমোদনকালে প্রধানমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সেখানে শুধু এই বিদ্যুৎকেন্দ্র না, আরো উন্নয়ন হবে। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ডিপ সি পোর্ট, ইলেকট্রিসিটিসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সোনাদিয়ায় একটি পর্যটন স্পট গড়ে উঠছে। এসব কিছু সমন্বয় করতে একটা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ‘মাতারবাড়ী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এখানে প্রত্যেকটা সংস্থা যে যার যার মতো কাজ করবে, তবে তাদের মধ্যে সমন্বয় করবে এই অথরিটি। আর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সরকার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এর সঙ্গে মাতারবাড়ীতে সমুদ্রবন্দরের জন্য সহায়ক অবকাঠামোও তৈরি হবে। এ প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এছাড়া সরকারের সেবা ই-সেবায় রূপান্তরে ও সব ক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজনীয় আইসিটি অবকাঠামো স্থাপন করা

 

হাওরে হবে উড়াল সড়ক

 

হবে। এজন্য ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এটিসহ ২৯ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্ল্যাটফরম এবং ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি সেন্টার অব এক্সিলেন্স স্থাপন, জেলা ও উপজেলা কমপ্লেক্সে আইটি অবকাঠামোসহ মাঠ পর্যায়ের ক্লাউড ফাইল সার্ভিস এবং ডিজিটাল স্টোরেজের জন্য কেন্দ্রীয় সার্ভার অবকাঠামো স্থাপন করা হবে। আইসিটি ল্যাব, স্মার্ট ভার্চুয়াল ক্লাসরুম এবং ডিসটেন্স লার্নিং প্ল্যাটফর্মসহ প্রয়োজনীয় আইসিটি অবকাঠামো সুবিধা সম্বলিত একটি ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার স্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির ভিত্তি বছরও সংশোধন করা হয়েছে। আমরা ছিলাম ২০০৫-০৬ সালে। এখন ভিত্তি বছর ২০১৫-১৬ বছরে নিয়ে এসেছি। এতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন অনেক বেড়েছে। মোট জিডিপির আকার ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বেড়েছে মাথাপিছু আয়ও। মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলার হয়েছে। যা টাকার অংকে ২ লাখ ১৬ হাজার ৫৮০ টাকা।

তিনি আরো বলেন, রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন, স্বাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া গড় আয়ু বেড়ে ৭২ দশমিক ৮ বছর হয়েছে। অন্যদিকে, দেশে দারিদ্র্যের হার কমে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।’

এছাড়া মাঠ পর্যায়ে ৫ হাজার ৫০০টি এনরোলমেন্ট অবকাঠামো স্থাপন এবং ১৭ হাজার ৩১৪টি সার্ভিস ডেলিভারি ডিভাইস বিতরণ, ১০টি ডিজিটাল ভিলেজ স্টেশন, ৪৯২টি অনাবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। একনেক সভায় ১১৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘অবকাঠামোগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির আধুনিকীকরণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১১৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

সভায় আরিচা (বরঙ্গাইল)-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপু র-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-৫০৬) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানিকগঞ্জ জেলা থেকে টাঙ্গাইল জেলা পর্যন্ত ৫৮.৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন, যানজটমুক্ত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন এবং প্রকল্প এলাকার পশ্চাৎপদ জনগণের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধন। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।

আর ১৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘নড়াইল শহরাংশের জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভাটিয়াপাড়া-কালনা-লোহাগড়া-নড়া ইল-যশোর জাতীয় মহাসড়কের নড়াইল শহরাংশের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নীতকরণের মাধ্যমে যানজট নিরসন এবং নড়াইল শহরের মধ্য দিয়ে যানজটমুক্ত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।

তিন হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প’ সংশোধন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় টেকসই গ্রামীণ পরিবহন ও বাজারসেবা প্রবর্তনের লক্ষ্যে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর বিনিয়োগ ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ দক্ষ অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া এক হাজার ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৬ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। গ্রামীণ বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে জনগণের যাতায়াত সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রকল্প এলাকায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

তিন হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। হাওর সহিষ্ণু অবকাঠামো উন্নয়নপূর্বক হাওর অঞ্চলে সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থা সহজীকরণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন এবং উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

আরো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা জেলার পোল্ডার নং-১৪/১ পুনর্বাসন’ প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় খুলনা জেলার অন্তর্গত পোল্ডার নং ১৪/১ এর বাঁধ ও অন্যান্য অবকাঠামোসমূহ পুনরুজ্জীবিত করে পোল্ডারটির কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা প্রদান ও লবণাক্ততা দূর করা, কৃষি/মৎস্য উৎপাদন নির্বিঘ্ন করার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং নদীভাঙন ও বন্যার কবল থেকে এলাকার অবকাঠামো রক্ষা করা হবে।

৭৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন অবকাঠামোসমূহের পুনর্নির্মাণ ও পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকারের সমন্বিত দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads