সারা দেশে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। ফলে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এমনকি ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে দেশের স্থলপথ, জলপথ এবং রেলপথ। এতে দূরের দৃষ্টিসীমানা লোপ পায়। যার কারণে তিনটি পথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শীতের সময়ে স্থলপথে বা মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। নদীপথেও বাড়ে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে রেলপথেও সিগন্যাল দেখতে না পেয়ে ও রেল দুর্ঘটনা ঘটে। এ বিষয়গুলো দেশের জন্য নতুন কিছু নয়। এ কারণে দেশে তীব্র শীতে ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মহাসড়ক, নদীপথ ও রেলপথ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সময়ে আন্তঃজেলা সড়ক ও মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক সড়কে ঘন কুয়াশার কারণে দূরের দৃষ্টিসীমা অনেকাংশে কমে আসে। যার ফলে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সামনের পথচারী ও বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে বেশি। এই ঘন কুয়াশার জন্য ঝুঁকি না নিয়ে সব ধরনের রেল, লঞ্চ, স্টিমার ও বাস, কাভার্ডভ্যান, ট্রাকসহ সব গাড়িচালকদের ধীরগতিতে গাড়ি চালানো উচিত। পাশাপাশি রেলপথ, নদীপথ ও মহাসড়কে চলাচলরত সব যানবাহনের চালকদের কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তায় ফগলাইট ব্যবহার ও গতিসীমা সীমিত রেখে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, রেল কর্তৃপক্ষ এবং দেশের মহাসড়কে কর্তব্যরত হাইওয়ে পুলিশ। দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যান চলাচলের গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাইওয়ে পুলিশের হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি তানভীর হায়দার চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা জারি করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা অনেকাংশে কমে আসছে। এর কারণে সামনের পথচারী ও বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানরত ও মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের চালকদের কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তায় ফগলাইট ব্যবহার ও গতিসীমা সীমিত রেখে বেশি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশে তাপমাত্রা কমে এসেছে। দেশের অধিকাংশ স্থানে প্রচুর কুয়াশা। কুয়াশায় অন্ধকারের কারণে সড়কের বিপরীত পাশের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে যানবাহন চালনায় ধীরগতি এবং সাবধানে চলার পরামর্শ দেয় হাইওয়ে পুলিশ।
অন্যদিকে দেশের সব স্থানেই জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। চলতি বছরে প্রথমবারের মতো বইছে শৈত্যপ্রবাহ। এর প্রভাবে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামতে শুরু করেছে। সারা দেশে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে। যার ফলে দেখা দিয়েছে, তীব্র বাতাস ও ঘন কুয়াশা। মেঘাচ্ছন্ন দেখা যায় আকাশ। ফলে সড়কে গাড়ি চালনায় কঠোর দৃষ্টি রাখতে হচ্ছে।
অবশ্য পৌষের শুরুতে কুয়াশার চাদর ও শৈত্যপ্রবাহকে স্বাভাবিক বলছেন আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, উচ্চচাপ বলয় ও উত্তর-পশ্চিমা শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ (জেড বায়ু) বেশি সক্রিয় থাকায় এবং কুয়াশা ও জলীয় বাষ্পে আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় শীতও তীব্র অনুভূত হচ্ছে। এ সময় কুয়াশাস্তর নিচে নেমে আসায় মেঘলা আবহাওয়াও বিরাজ করছে। পৌষ মাসে এমন আবহাওয়া থাকেই, এটা অস্বাভাবিক বিষয় নয়। ডিসেম্বরের শেষ ভাগে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ থাকবে। সোমবার থেকে তাপমাত্রাও বাড়তে পারে।
সদরঘাট নৌফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমানে নদীপথে লঞ্চ ও স্টিমার চলাচলে সারেংদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা ও লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা সবাই মিলে সমন্বয় করে শিফট করে সব সারেং ও সুকানিসহ লঞ্চ স্টিমার কর্মচারীদের সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। কুয়াশার মধ্যে নদীতে ধীরে লঞ্চ ও স্টিমার চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
রেল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেছেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে পাহাড়ি এলাকায় স্টেশনের সিগন্যাল দেখতে সমস্যা হয় রেলচালকদের। যাত্রী নিরাপত্তার জন্য এবং নিজের জানমাল রক্ষার্থে রেলচালকদের ধীরগতিতে রেল চালানোর পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, রেল চলাচলে সিলেট, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম এলাকায় রেললাইন ও স্টেশনগুলো পাহাড়িয়া অঞ্চলে। সেখানে ঘন কুয়াশায় রেললাইন এবং সিগন্যাল বাতি দেখা যায় না। এ কারণে রেল ধীরগতিতে চালানোর জন্য চালকদের সতর্ক করে দেন এই রেল বিভাগের কর্মকর্তা।
যাত্রীকল্যাণ সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেছেন, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘন কুয়াশার কারণে চোখের দৃষ্টিসীমা কমে যায়। যার ফলে মহাসড়কে সামনের পথচারী ও বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন সম্পর্কে ধারণা রাখতে ব্যর্থ হন চালকরা। এর ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের চালকদের কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তায় ফগলাইট ব্যবহার ও গতিসীমা সীমিত রেখে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।





