সোনারগাঁয়ে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে মরে ভেসে উঠেছে কোটি টাকার মাছ 

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

সোনারগাঁয়ে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে মরে ভেসে উঠেছে কোটি টাকার মাছ 

  • সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৭ জুলাই, ২০২০

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভা এলাকার চৈতী কম্পোজিট নামের একটি কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পানিতে মিশে কয়েকটি বিলের প্রায় কোটি টাকার মাছ মরে ভেসে উঠেছে। সোমবার দুপুরে ভুক্তভোগীরা সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী আল আমিন জানান, মাছ চাষ করতে বিলের চারিদিকে নেট, খুটি, বাঁশ ও মাছের খাবারসহ এ পর্যন্ত ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। মৌসুম শেষে এ প্রকল্পের মাছ প্রায় দেড় কোটি টাকা বিক্রি করতে পারতাম। গতকাল গভীর রাতে চৈতী কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য নিষ্কাশনের কারণে বিলের মাছ মরতে শুরু করে। বিলে রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, কই, মাগুর ও সিলভারকার্প জাতীয় মাছসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির মাছ ছিল। সব মাছ মরে ভেসে ওঠায় বিনিয়োগকারীরা এখন পথে বসেছেন।

এলাকাবাসী জানান, পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামের করিম মাওলানার ছেলে আল আমিন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ শেষে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষে গ্রামের ২০ জন যুবক ১.৮০ একর জমি ভাড়া নিয়ে একটি মৎস্য প্রকল্প শুরু করেন। তাদের প্রকল্পে বর্তমানে বিভিন্ন প্রজাতের প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাছ রয়েছে। এ ছাড়া সনমান্দী ও পৌরসভার রিপন, বদরুজ্জামান, কামালসহ প্রায় ৩০ জন মৎস্য চাষি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এলাকাবাসী আরো জানান, প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চৈতী কম্পোজিটের বর্জ্য অবৈধভাবে নিষ্কাশন করে বিভিন্ন খাল, বিল ও নদে ফেলছে। ইটিপির মাধ্যমে বর্জ্য শোধন ব্যয়বহুল বলে তা ব্যবহার করছে না। প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারখানা পর্যবেক্ষণ করতে আসলে অল্প সময়ের জন্য ইটিপি চালু করে। পরে আবার বন্ধ করে দেয়।

সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি গাজী মুজিবুর রহমান বলেন, বিষাক্ত বর্জ্য পানির দুর্গন্ধে বায়ু দূষণ সোনারগাঁয়ে ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। এ কারণে বিভিন্ন দূরারোগ্য ব্যাধি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ব্যাপারে চৈতী কম্পোজিটের জিএম মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান, আমরা ইটিপি ব্যবহার করে শোধনকৃত পানি আমাদের নিজস্ব জমিতে ফেলছি।

সদ্য যোগদান করা সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, আমি সোনারগাঁয়ে যোগদান করার পরপরই বিষাক্ত বর্জ্যে বিলের মাছ মারা যাওয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads