সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দফায় দফায় সংঘর্ষ : আহত শতাধিক

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দফায় দফায় সংঘর্ষ : আহত শতাধিক

  • বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এতে উভয়পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কমপক্ষে ৫০ জনকে হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে শহরের ইসলামিয়া কলেজ মাঠে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সমাবেশে জেলার সবকয়টি উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সমর্থকরা সকাল থেকেই বাস ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনযোগে এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে।

দুপুরের দিকে একটি মিছিল ওই সমাবেশে যাওয়ার পথে বিএ কলেজ রোডে আওয়ামীলীগ বাধা সৃষ্টি করে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। একপর্যায়ে এ সংঘর্ষ শহরের বড়পুল, কাটাখালী ব্রিজ, নগর্দীপুল, রেলগেট ও নিউ ঢাকা রোডসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষকারীরা ককটেল বিষ্ফোরণ ও রাস্তায় অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটায়। এ সংঘর্ষে শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং জনমনে ব্যাপক আতংকের সৃষ্টি হয়। পুলিশ বিপুল পরিমাণ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা বলছেন, বিএনপি সমাবেশের নামে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ সংঘর্ষ ও হামলা করে। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলছেন, আয়োজিত সমাবেশে একটি মিছিল অংশগ্রহণকালে আ.লীগ বাধা সৃষ্টি করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে মিছিল নিয়ে আসার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।

এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে আমাদের প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক। গুরুতর আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি মিছিল নিয়ে সমাবেশে যাওয়ায় পথে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয় এবং আমাদের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে এবং হামলা ও ভাংচুর শুরু করে। সংঘর্ষে আমাদের অন্তত ৪০/৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শারাফত ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads