সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজত ইসলাম নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে দুইজন। চারটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে হরতাল পালনকারিরা। বেলা ১২ টার দিকে শিমরাইল মোড়, মৌচাক ও মাদানীনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
পূর্বঘোষিত হরতাল পালন করতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার কওমী মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র শিক্ষক আজ রোববার (২৮ মার্চ) ফজরের নামাজের পর ভোর ৬ টা থেকে সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেয়। টায়ার ও কাঠের স্তুপ করে আগুন ধরিয়ে দেয় মহাসড়কের কমপক্ষে ৩০ টি স্পটে। এতে বন্ধ হয়ে পড়ে মহাসড়কে সকল প্রকার যানচলাচল। ভোগান্তিতে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী সাধরণ।
সকাল ৯ টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলমের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা হারতাল পালনকারিদের মহাড়ক থেকে সড়ে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও তারা কর্ণপাত করেননি।
বেলা ১২ টার দিকে কঠোর হয় পুলিশ। হেফাজত নেতাকর্মীদের সরিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়। এসময় হরতালকারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ প্রথমে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে হেফাজতকর্মীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা মাদানীনগর কওমী মাদ্রাসার সামনে মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি ট্রাক, দুইটি কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ছবি তুলতে গেলে অনেক গণমাধ্যম কর্মীদের মারধর, ক্যামেরা ভাংচুর করে হরতালকারিরা।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এসময় শিমরাইল মোড়ে ডাক্তার শফিক ও মাদানীনগর এলাকায় এক বৃদ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পথচারিরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে থাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহের পারভেজ চৌধুরী ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান কোন মন্তব্য করেননি।
জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।





