সিদ্ধিরগঞ্জ আ.লীগে অনুপ্রবেশকারীরা বিপাকে, দলে নেবে না বিএনপি

ফাইল ছবি

রাজনীতি

সিদ্ধিরগঞ্জ আ.লীগে অনুপ্রবেশকারীরা বিপাকে, দলে নেবে না বিএনপি

  • সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২২ নভেম্বর, ২০১৯

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিতর্কিত দাপটি অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পেলেই দলের সুনাম নষ্টকারী এসব সুবিধাবাদীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় শীর্ষনেতারা। তাদেরকে আর বিএনপিতেও ঠাঁই দেওয়া হবে না বলে জানান বিএনপি নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। রয়েছে নাশকতার মামলা। এসব নব্য আওয়ামী লীগার হলেন- সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মতিন প্রধান, নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি রওশন আলী চেয়ারম্যান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাবেক বিএনপি নেতা ইস্রাফিল প্রধান, নারায়ণগঞ্জ জেলা তরুণ দলের সাবেক আহ্বায়ক টি এইচ তোফা, ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাবেক বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন নাজু, হারুন আর রশিদ, আনিছুর রহমান, নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক নেতা নজরুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি রুস্তম আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতীদল নেতা সেলিম মজুমদার, নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের আহ্বায়ক এস এম আসলামের ছোট ভাই স্বপন মণ্ডল, সাবেক বিএনপি নেতা ইউনুস মিয়া, সাইলো এলাকার পাঁচতারা সংসদের সভাপতি সাবেক জামায়াত নেতা আলী আবকর খানসহ শতাধিক।

অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ফুটপাত বাণিজ্য ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। লোকদেখানো দলীয় কর্মসূচিতেও তারা তৎপর। দলীয় ব্যানারে অপকর্ম করে দলের সুনাম ক্ষুণ্নকারী চক্রের তালিকা কেন্দ্রে জমা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের একটি সূত্র। তবে তালিকায় কাদের নাম রয়েছে তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান জানান, অন্যদল থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা কোনো পদ পাবেন না। ২০০৯ সালের পর যারা দলে ঢুকেছেন তারা অনুপ্রবেশকারী। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পেলেই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া বলেন, স্বার্থের জন্যই তারা আওয়ামী লীগে এসেছেন। এদের দ্বারা দলের কোনো উপকার হচ্ছে না। বরং তারা দলের ক্ষতি করছেন।

বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদানকারীদের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, কিছু সুবিধাবাদী লোক আছে যারা যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা সে দলে প্রবেশ করে। সুকৌশলে এরা শক্তিশালী হয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে বিভিন্নভাবে ফায়দা লোটে। যারা বিএনপি ছেড়েছে তারা দলে ফিরতে চাইলেও আর ঠাঁই দেওয়া হবে না। কারণ দল বদলকারীরা কখনো দলের আদর্শ হতে পারে না।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads