সাইফুল ইসলাম, সিংগাইর মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ কাঁচা পাকা রাস্তা খানা খন্দে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব রাস্তা সংস্কার কিংবা মেরামত না করায় স্থানীয় জনগনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । অনেকই সমাজিক যোগাযোগে রাস্তার ছবি পোষ্ট করে স্থানীয় প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। খানা খন্দ এসব সড়ক দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা ।
স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির অভাব, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে কমিশন বানিজ্যের কারণে মাত্র কয়েক বছর যাইতে না যাইতেই রাস্তা গুলো খানা খন্দে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে । এতে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ও প্রাণ নাশের৷ আশংকা করছে স্থানীয়রা ।
জানা গেছে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন, ১ টি পৌরসভার গ্রামীন জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা কে উন্নত ও সহজে উপজেলা, জেলা ও রাজধানীর সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য অর্ধশতাধিক পাকা রাস্তা নির্মাণ করে সরকার। এসব পাকা রাস্তার মধ্যে দু, ডজন রাস্তার ইট বালু সুরকি, কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তাগুলো ন্যাড়া রাস্তায় পরিণত হয়েছে। এসব খানা খন্দে রাস্তায় অনেক সময় বৃষ্টি হলেই হাটু পানি জমে কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায় । এসব রাস্তা দিয়ে যানবাহন ও মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ।
বেহাল দশা রাস্তার মধ্যে উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের সরুপুর হতে বায়রা বাজার রাস্তা,, তালেবপুর ইউনিয়নের ইসলাম নগর বাজার হতে কাংশা কাঁচা বাজার পর্যন্ত, তালেবপর হাইস্কুল হতে রসুলপর বার্তা গ্রাম পাকা রাস্তা, জয়মন্টপ ইউনিয়নের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড হতে কমলনগর রাজঘাট পাকা রাস্তা , জামর্ত্তা বাজার হতে মাধবপুর তজু কোম্পানি ব্রিজ পর্যন্ত, বলধারা বাজার হতে গোলাডাংগা মুক্তি যোদ্ধা স্মৃতি ব্রিজ, উত্তর জামশা বাজার হতে দক্ষিণ জামশা বাজার বড় কালিয়াকৈর বাজার রাস্তা, সারারিয়া মাটি কাটা রাস্তা , সিরাজ পুরহাট হতে ইসলাম পুর রাস্তা , , চান্দহর ইউনিয়নের মান্নার দোকান হতে ফতেপুর বাজার রাস্তা , চারিগ্রাম মাঝি পাড়া হতে বলধারা ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তা সহ এরকম দুডজনের বেশি রাস্তা বেহাল দশা পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখাযায় গ্রামীণ পাকা রাস্তাগেলারইট খোয়া, বালু পিচঢালাই কারপ্টেটং উঠে গেছে,,পাথর এলোমেলো হয়ে উঠে গেছে,। এসব রাস্তার কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে । একটু বৃষ্টি হলেই গর্তে হাটু পর্যন্ত পানি জমে। আবার৷ শুকনো মৌসুমে ধূলা বালিতে নাকাল হয়ে যায়। আর এসব রাস্তা দিয়েই জীবনে ঝুঁকি নিয়ে ছোট বড় যানবাহনে চলাচল করছে স্থানীয় জনগন। । এছাড়া এসব রাস্তা দিয়ে প্রতি নিয়ত চলাচল করছে ইট বালু সিমেন্ট মাটি বোঝা অবৈধ মাহিন্দ্র । বিশেষ করে ইটভাটা ও৷ নদী খননের মাটি বহনকারী ভারি যানবাহন চলাচলের কারণ রাস্তাগুলো মরণ ফাঁদে পরণত হচ্ছে।
সারারিয়া গ্রামের বীর মুক্তি যোদ্ধা মোঃ মালেক মাষ্টার বলেন, দেড় যুগ ধরে চাকুলিয়া সারারিয়া গ্রামের রাস্তা টি খানা খন্দে ভরা । একটু বৃষ্টি হলেই কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায়। জনপ্রতিনিধিদের কোন মাথা ব্যাথা নেই
চরজামালপুরের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বায়রা হতে সিংগাইর বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তা সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তাই ভাংগা চুড়া, কৃষি দ্রব্য বাজারে আনা নেওয়া খুবই কষ্ট তাই রাস্তা টি তাড়া তাড়ি ভাল করা দরকার ।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন সিংগাইরে রাস্তা গুলো যাতে তাড়াতাড়ি সংস্কার কিংবা মেরামত হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এবং ইতি মধ্যে কিছু রাস্তা পাকা করণের কাজ চলমান আছে।





