সার আমদানি কমবে ৫৬ ভাগ, সাশ্রয় হবে ৬ হাজার কোটি টাকা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্প

সার আমদানি কমবে ৫৬ ভাগ, সাশ্রয় হবে ৬ হাজার কোটি টাকা

  • সুজন বর্মণ, নরসিংদী
  • প্রকাশিত ২২ এপ্রিল, ২০২২

এশিয়ার সর্ববৃহৎ পরিবেশ বান্ধব নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্পটি চালু হলে দেশে ইউরিয়া সারের আমদানি কমবে ৫৬ ভাগ। সরকারের প্রতিবছর সাশ্রয় হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। যার ফলে ২০২৫ সালের পর দেশে আর সার আমদানি করতে হবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গণ ভবন থেকে এশিয়ার সর্ববৃহৎ পরিবেশ বান্ধব ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্পের এলাকায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি।

ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্পে সূত্রে জানা যায়,নরসিংদী জেলার পলাশেবর্তমানে বিদ্যমান ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড (ইউএফএফএল) এবং পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড (পিইউএফএফএল) এ বছরে ৩ দশমিক ১৫ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হয়। কিন্তু কারখানা দুইটিতে গ্যাসের ব্যবহার অত্যাধিক বৃদ্ধি, ডাউন টাইম বৃদ্ধি এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এদের স্থলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে।‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রজেক্ট (জিপিইউএফপি)’ প্রকল্প নামে জাপানের ঐতিহ্যবাহী মিত্সুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এমএইচআই) এবং গণচীনের চায়না ন্যাশনাল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নং-৭ কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসি-৭) কনসোর্টিয়াম এ কারখানা নির্মাণ করছে। এ সার কারখানা নির্মাণের ফলে এটি হবে এশিয়ায় মধ্যে সর্ববৃহৎ সারকারখানা। ২০১৮ সালের অক্টোবরে কাজ শুরু হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন পর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্থর অনুষ্ঠিত হলো। ইতিমধ্যেই এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই সার কারখানাটির প্রকল্পের ৭০ ভাগের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে । ১০ হাজার ৪৬০.৯১ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রকল্পটি চালু হলে দৈনিক ২ হাজার ৮শ মেট্রিকটন করে বছরে ৯ লক্ষ ২৪ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদন সম্ভব হবে। যার ফলে সরকারের বিদেশ থেকে সার কিনতে হবে না। ফলে সরকারের বছরে ৬ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে । এছাড়া দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে ক্রমবর্ধমান ইউরিয়া সারের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সুলভ মূল্যে কৃষকদের নিকট ইউরিয়া সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। দেশের ইউরিয়া সারের আমদানি হ্রাস করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। আর দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

প্রকল্পটির প্রজেক্ট ডিরেক্টর রাজিউর রহমান মল্লিক বলেন, বর্তমানে দেশে ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে আমাদের ৯ লক্ষ মেট্রিক টন সার উৎপাদিত হয়। আর ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার প্রকল্পটি চালু হলে ৯ লক্ষ ২৪ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদন সম্ভব হবে। ফলে আমরা বছরে ১৮ লক্ষ মেট্রিক টন সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবো। ফলে সারের আমদানি ৫৬ ভাগ কমে যাবে। বছরে সাশ্রয় হবে সরকারের ৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালের পর দেশে আর সার আমদানি করতে হবে না।

তিনি আরো বলেন, করোনার কারণে কাজ করতে না পারার কারণে প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। যার কারণে প্রকল্পের ব্যয় আরো ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবেশ যদি ভালো থাকে এখন যেভাবে কাজ চলছে আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।

বিসিআইসির চেয়ারম্যান শাহ মো. ইমদাদুল হক বলেন, এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব। এটাই বাংলাদেশের প্রথম কারখানা হবে যেখানে পরিবেশ দূষণকারী কার্বন ড্রাই অক্সাইড বাহিরে ছেড়ে না দিয়ে তা পূণব্যবহার করে ১০% ইউরিয়া সারের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া সমপরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করে পুরাতনসারকারখানা দুটি হতে উৎপাদিত সারের প্রায় তিন গুণ গ্রানুলার ইউরিয়া সার উৎপাদিত হবে। জাপান ও চীনের সহযোগিতায় এই পরিবেশবান্ধব সার কারখানা স্থাপিত হবে।

শিল্পমন্ত্রী এ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি বলেন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশ বান্ধব ইউরিয়া সার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের সারের ঘাটতির পরিমাণ কমে আসবে। বাকি ঘাটতি পূরণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিরাজগঞ্জ বা আশুগঞ্জে প্রকল্প নেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী মাসে জাপান থেকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল দুটি কারখানা পরিদর্শন করে মতামত দিলে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। ঘোড়াশালের পর এই প্রকল্প চালু হলে দেশে আর কোন সারের ঘাটতি থাকবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঘোড়াশাল এবং পলাশে ২টি পুরাতন ইউরিয়া সার কারখানার স্থলে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শক্তি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব নতুন সার কারখানা ‘ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। নতুন এ সার কারখানায় দৈনিক ২৮০০ মে. টন (বার্ষিক প্রায় ১০ লাখ মে. টন) দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে ১০ শতাংশ ইউরিয়া উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রকল্পটিতে জাপান ও চীন সরকার ঋণ সহায়তা করেছে। বন্ধু প্রতীম এই দেশের প্রতি আমি ধন্যবাদ ও কৃতঞ্জতা জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads