শিক্ষা

সাফল্যে এবারও এগিয়ে মেয়েরা

  • ''
  • প্রকাশিত ১৩ মে, ২০২৪

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে গতকাল রোববার। ফলাফলে গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। যা গতবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। বরাবরের মতো এবছরও পাস ও জিপিএ-৫ এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। ছাত্রীদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, ছাত্রদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে মাদরাসায় ৭৯ দশমিক ৬৬ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৮১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে যশোর বোর্ড। পিছিয়ে রয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে। দুই শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার যথাক্রমে ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ ও ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তরের পর বেলা সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, জিপিএ ৫- পেয়েছে ৪৯ হাজার ১৯০ জন, বরিশালে ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ জিপিএ ৫- পেয়েছে ৬ হাজার ১৪৫, চট্টগ্রামে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, জিপিএ ৫-পেয়েছে ১০ হাজার ৮২৩, কুমিল্লায় ৭৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, জিপিএ ৫-পেয়েছে ১২ হাজার ১০০, দিনাজপুরে ৭৮ দশমিক ৪০ শতাংশ, জিপিএ ৫-পেয়েছে ১৮ হাজার ১০৫, রাজশাহীতে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, জিপিএ ৫-পেয়েছে ২৮ হাজার ৭৪, সিলেটে ৭৩ দশমিক ০৪ শতাংশ জিপিএ ৫-পেয়েছে ৫৪৭১, ময়মনসিংহ ৮৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, জিপিএ ৫-পেয়েছে ১৩ হাজার ১৭৬ ও যশোরে ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ, জিপিএ ৫-পেয়েছে ২০ হাজার ৭৬১ জন। আর মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, জিপিএ ৫-পেয়েছে ১৪২০৬ জন এবং কারিগরিতে পাসের হার ৮১.৩৮ শতাংশ, জিপিএ ৫-পেয়েছে ৪ হাজার ৭৮ জন।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মোট পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ৬ হাজার ৩৯৪ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ১৩ হাজার ৪৫ হাজার ৬৭৮। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪৫। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৬৫ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৪। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ২০৬। কারিগরি বোর্ডের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৮ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ৯৯ হাজার ৭২১। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৭৮ জন।

চলতি বছর সব শিক্ষা বোর্ডে উত্তীর্ণ মোট ছাত্রের চেয়ে ৫৯ হাজার ৪৭ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া ছাত্রদের চেয়ে ১৫ হাজার ৪২৩ বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এছাড়াও বিদেশে আটটি কেন্দ্রে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৪৭ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ২৯৮ জন। ফেল করেছে ৪৯ জন। পাসের হার ৮৫ দশমি ক ৮৮ শতাংশ। প্রকাশিত ফলাফলে কারও কাক্সিক্ষত ফল না এলে সে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন বা খাতা চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। এ কার্যক্রম শুরু হবে আজ সোমবার (১৩ মে) থেকে, চলবে ১৯ মে পর্যন্ত।

তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও দেখা যায়, ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন। চলতি বছরে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে এক হাজার ৪৪৯ জন।

শনিবার স্কুল খোলা রাখা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী ঈদুল আজহার পর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শনিবার আবারও বন্ধ রাখতে পারবেন। এ বিষয়ে পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা একটি নির্দিষ্ট সময় পাবে বাড়ির কাজ করার জন্য, এটা বিবেচনায় নিয়ে শনিবারও স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছিল। আরও অন্যান্য অনেক বিষয় ছিল। যেহেতু আমরা ৯টি কর্মদিবস পাইনি, শনিবার আপাতত একটা ব্যবস্থা করে সেই কর্মদিবসের ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করছি। তবে এটা স্থায়ী কোনো সিদ্ধান্ত নয়। আমরা এনসিটিবির সঙ্গে আলোচনা করছি; ডিরেক্টরেট অফিসগুলোর সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। শিক্ষকদের বিশ্রামের প্রয়োজন আছে; শিক্ষার্থীদেরও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। শিক্ষার্থীরা বাড়ির কাজ যথাযথভাবে করছে কি না; সেটার জন্য সময় পাওয়া যাচ্ছে কি না। সেটাও দেখার প্রয়োজন আছে।

৫১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এবার গড় পাসের হার বাড়লেও কমেছে মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। একই সঙ্গে বেড়েছে শতভাগ পাস ও শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। চলতি বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই হাজার ৯৬৮টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৩৫৯টি। বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৬০৯টি। অন্যদিকে চলতি বছর একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫১টি। গত বছর সে সংখ্যা ছিল ৪৮টি। বছরের ব্যবধানে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৩টি। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরা। বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায়, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

পাস ও জিপিএ -৫ এ এগিয়ে মেয়েরা:

সার্বিকভাবে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সব বোর্ড মিলিয়ে মেয়েদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলেও মেয়েরা এগিয়ে। ৯ বোর্ড মিলিয়ে মেয়েদের পাসের হার ৮৫ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৮২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই চিত্র দেখা গেছে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও। মাদরাসা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেয়েদের ৮০ দশমিক ৫৭ শতাংশই পাস করেছে। ছেলেরা পাস করেছে ৭৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মেয়েদের পাসের হার ৮৮ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ৭৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।

কেবল পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে অনেকটাই। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত তথ্য বলছে, ৯৮ হাজার ৭৭৬ জন মেয়ে শিক্ষার্থী এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায়। ছেলেদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৩ হাজার ৩৫৩ জন। সে হিসাবে প্রায় ছেলেদের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার বেশি মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বলছে, মেয়েরা জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ হাজার ১৬৮ জন। বিপরীতে এসব বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭৪ হাজার ৬৭৭ জন ছেলে পরীক্ষার্থী পেয়েছে জিপিএ-৫। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সাত হাজার ৪৬৭ জন মেয়ে পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছেলেরা পেয়েছে ছয় হাজার ৭৩৯ জন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই হাজার ১৪১ মেয়ে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছেলেরা জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৯৩৭ জন।

আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ২০২৪ সালের এসএসসির ফলাফলের সারসংক্ষেপ ও পরিসংখ্যান তুলে দেন ১১টি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানরা। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেগম শামসুন নাহারসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ১৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ১২ মার্চ। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৩ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads