দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারী বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বৃদ্ধ বাবাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে একদল সন্ত্রাসী।
বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলা চত্বরে ইউএনও’র সরকারী বাসভবনে নিরাপত্তা প্রহরীকে বেধে রেখে ভবনের ২য় তলায় থাকা ভেন্টিলেটর খুলে ভিতরে প্রবেশ করে একদল সন্ত্রাসী। বাড়িতে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম এবং তার বৃদ্ধ বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ কে কুপিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তারা বাবাকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অবস্থা খুবই গুরুতর হওয়ায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা নিউরো মেডিসিন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ কে রংপুর মেডিকেলের নিউরো মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ওয়াহিদা খানম ১৮ সালের নভেম্বর মাসে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা সহ চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থির মাঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে গেছেন। তার স্বামীও দীর্ঘদিন পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।
ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর নেওয়াজ আহম্মেদ বলেন, ভোর ৬টার সময় উপজেলার স্টাফরা আমাকে খবর দেয়। তাৎক্ষণিক ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখি ইউএনও গুরুতর জখম অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে বিছানার উপরে পড়ে আছে এবং তারা বৃদ্ধ বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে শুয়ে আছে। আমরা প্রাথমিকভাবে রক্ত বন্ধ করার জন্য ব্যান্ডেজ করে রংপুর মেডিকেলে পাঠিয়ে দেই।
হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (অতিঃ দায়িত্ব) মিথুন সরকার বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু জানানো সম্ভব নয়। তবে আশ্বস্ত করতে পারি অতি দ্রুত সন্ত্রাসীদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।





