শ্রীপুরে অগ্রণী ব্যাংকের ৪০ গ্রাহকের টাকা নয়-ছয়, ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ফাইল ছবি

অপরাধ

শ্রীপুরে অগ্রণী ব্যাংকের ৪০ গ্রাহকের টাকা নয়-ছয়, ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত

  • শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গাজীপুরের শ্রীপুরে উপজেলা হেডকোয়াটার অগ্ৰণী ব্যাংক শাখার  ৪০ জন গ্রাহকের টাকা নিজস্ব হিসাব নম্বরে জমা না দিয়ে 'নয়-ছয়' করা হয়েছে এমন অভিযোগে তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপকে  প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। পরে নতুন ব্যবস্থাপক এ শাখায় যোগদান করেন।

স্বাক্ষর জাল আর জমার টাকা ( জমা রশিদ নষ্ট করে) নিদির্ষ্ট হিসাবে জমা না করে এ সব টাকা সরানো হয়েছে। গত জুলাই মাসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। বর্তমানে এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের গঠিত তদন্ত দল তদন্ত করছেন। ইতোমধ্যে সুনিদির্ষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে কিছু গ্রাহক টাকা ফেরত পেয়েছেন। এ খবর বাইরে প্রকাশ পেলে অনেক গ্রাহকরা অগ্রণী ব্যাংক শাখায় ভীড় করছেন নিজেদের হিসাবের(একাউন্টের) তথ্য জানতে। অনেক গ্রাহকই নিজের হিসাব নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন। তবে কত টাকার গড়মিল করা হয়ে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তদন্তের পর টাকার সঠিক হিসাব নিশ্চত হওয়া যাবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান।

প্রত্যাহার করা হয়েছে সাবেক ব্যবস্থাপক আবদুল হালিমকে। আর বরখাস্ত করা  হয়েছে প্রধান হিসাব রক্ষক (ক্যাশ ইনচার্জ) নজরুল ইসলাম, হিসাবরক্ষক অফিসার দেলোয়ার হোসেন ও  বদরুল হাসান।

ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রাহক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিভিন্ন ধরনের একাউন্টে যথা নিয়মে টাকা জমা দিলেও সেগুলো ব্যাংকের নিজস্ব (গ্রাহকের) হিসাব নম্বরে জমা না করে ওই কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেন।  কয়েক গ্রাহকের হিসাব মিলিয়ে জমা ও উত্তোলনের গড়মিল ধরা পড়লে বিষয়টি নজরে আসে। পরে এ সব বিষয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কার্যালয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ দেন। এ সব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তে ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অধিকতর তদন্ত চলছে। তারা জানান প্রায় দেড় কোটি টাকার হিসাবে গড়মিল ধরা পড়েছে। তবে অধিকতর তদন্তের পরেই সুনির্দিষ্ট টাকার অংকটা বলা যাবে বলে তদন্ত দল জানান।  যাদের কাছে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ রয়েছে তারা আগে টাকাগুলো ফেরত পাবেন বলে ব্যাংকের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের জানিয়েছেন। 

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল হালিম বুধবার জনান, আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতির বিষয়গুলো আমিই ধরেছি। তিনজন কর্মকর্তা এসব কাজে জড়িত। বর্তমানে তদন্ত চলছে। পুরো বিষয়টিই আমাদের আভ্যন্তরীণ। এ বিষয়ে আর কিছু বলা যাচ্ছে না।

প্রবীন গ্রাহক হাবিবুর রহমান জানান, তার একাউন্টে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার হিসাব গড়মিল পেয়েছেন। পরে তিনি এ বিষয়ে ব্যাংকে যোগাযোগ করা হলে তাকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। আরো ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ফেরত দিবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এক (বরখাস্তকৃত) কর্মকর্তা ফোনে টাকা ফেরত দেবেন এ কথা জানিয়েছেন। আগামীকাল আরো কিছু টাকা ফেরত দিবেন বলা হয়েছে।

ব্যাংকের সামনে ভীর করা একাধিক গ্রাহক জানান, পুরাতন হিসাবগুলোই টার্গেট করে এ পরিকল্পনা করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। আমরা আমাদের অর্জিত টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রেখে নিরাপদে থাকতে চাই। যারা এ অপরাধ করেছে তাদের প্রকৃত শাস্তি প্রদান করা হোক। 

গ্রাহক হেলাল উদ্দীন জানান, এমন খবর পেয়ে আমার একাউন্টের স্টেটমেন্ট তুলতে আসছি। স্টেটমেন্ট পেলে নিশ্চিত হতে পারব টাকার হিসাবে কোনো গড়মিল করা হয়েছে কি না। তিনি বলেন, এমন লুটপাটের খবরে সাধারন গ্রাহক এ সব ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে। দ্রুত গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিয়ে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে গ্রাহকরা মুখ ফিরিয়ে নিবে সরকারী ব্যাংকে লেনদেন করা থেকে।

ব্যাংকটির বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ( হিসাবরক্ষক) বদরুল হাসান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল তা মিট করে ফেলেছি। টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছি গ্রাহকদের । আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শ্রীপুর অগ্রণী ব্যাংক শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বলেন , বিষয়টি নিয়ে আমাদের হেড অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। অনেক একাউন্টের টাকা ইতিমধ্যে রিকভারি হয়েছে। এ বিষয়ে কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত কার্যক্রম ও রিকভারি শেষ হতে আরও সময় লাগবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads