জীব ও পরিবেশ

শোধনাগার থাকতেও পয়ঃবর্জ্য ফেলছে ড্রেনে,হচ্ছে পরিবেশ দূষণ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১১ মে, ২০২৩

তৈয়ব আলী সরকার নীলফামারী, নীলফামারী প্রতিনিধি:
আমেরিকা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটার এইড এর অর্থায়নে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশালাকৃতির শোধনাগার থাকতেও বাসা-বাড়ির মলমুত্র ড্রেনে ফেলছে স্বয়ং পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আর বর্জ্য শোধনাগারটিকে অকেজো রেখেছে।
অভিযোগ রয়েছে শোধনাগারের ভ্যাকুট্যাক ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ পকেটস্থ করছে একটি চক্র। ফলে পৌরসভার তদারকি সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারী চুপ থাকায় এই অবস্থা প্রকট হচ্ছে। নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার হিউম্যান ফেসকল ট্রিটমেন্ট প্লান্টে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের নতুনবাজার সুরকি মহল্লার ভাগার এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ওই প্লান্টের প্রধান গেটের সামনেই একটি ভ্যাকুট্যাক থেকে মানববর্জ্য (মলমূত্র) ড্রেনে ফেলছে। বিভিন্ন বাসা বাড়ির সেপটি ট্যাংক থেকে সংগ্রহ করা এসব বর্জ্য ট্রিটমেন্টের (শোধনের) জন্য প্লান্টের ভিতরে না দিয়ে খোলা জায়গায় কেন ফেলছেন জানতে চাইলে ভ্যাকুট্যাক চালক সানু বলেন, গেটবন্ধ তাই ড্রেনে ফেলছি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ বেশ কিছুদিন থেকে ড্রেনে এসব বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে সকালের দিকে একাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রচুর রোদের তাপে খোলা জায়গার এই ময়লার অসহনীয় গন্ধে বিপাকে পড়েছে আশেপাশের মানুষ। এদিকে, প্লান্টে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ রোধের পরিকল্পনাও ভেস্তে যাচ্ছে। ফলে প্লান্টটি অকেজো হয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, একটি চক্র চালককে দিয়ে টয়লেটের বর্জ্য সংগ্রহ করে সার্ভিস চার্জের টাকা নিজেরা পকেটস্থ করতে প্লান্টের বাইরে গোপনে ড্রেন বা খোলা জায়গায় ফেলছে। এতে পৌরসভার রেজিষ্টারে এসংক্রান্ত তথ্য যেমন থাকছে না, তেমনি পৌর একাউন্টে কোন অর্থও জমা হচ্ছে না। আয়কৃত অর্থ চলে যাচ্ছে অবৈধভাবে। ফলে রাজস্ব হারাচ্ছে পৌরসভা।
পৌর সভার সচিব সাইদুজ্জামান বলেন, ‘প্লান্টের পন্ডসগুলো উপচে গেছে তাই সংগ্রহ করা বর্জ্য অন্যত্র মজুদের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে ড্রেনে ফেলা ঠিক হয়নি। প্লান্ট তদারকি কর্মচারীরা সময়মত না থাকায় হয়তো ড্রেনে ফেলেছে। তবে মেয়রের কথা বললে ভালো হয়।’
নির্বাহী প্রকৌশলী সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনভাবে মলমুত্র উম্মুক্ত স্থানে ফেলা যাবে না। এতে পরিবেশ দূষণ ঘটবে। আমাদের অগোচরে হয়তো এমনটা হয়েছে। তিনি তাৎক্ষণিক খোঁজ খবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি করেন। এতে ইনচার্জ সামাদ ড্রাইভার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।’
তদারকি সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশনের সৈয়দপুর শাখা ম্যানেজার নজরুল ইসলাম তফাদার বলেন, ‘বর্জ্য যদি বাইরে কোথাও ফেলে তা পৌরসভার দায়। আমাদের প্লান্টে কোন সমস্যা নাই। দিনরাত ২৪ ঘন্টায় ৩ জন কেয়ারটেকার নিয়োজিত। গেট বন্ধ থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। আর যদি বন্ধও থাকতো তাহলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত ছিল। তা না করে মিথ্যে অজুহাতে ড্রেনে ফেলায় বিষয়টি গোঁজামিল মনে হচ্ছে। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী মিটিংয়ে আছে অজুহাতে সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে যান। পরে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করেও তিনি রিসিভ করেননি।
সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘প্রয়াত মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ওয়াটার এইডের সহায়তায় ও এসকেএস ফাউন্ডেশনের তত্বাবধানে এই প্লান্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি দেখতে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, এমপি, সচিবরা এসেছিল। যাতে তারাও এমন প্লান্ট করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই শোধনাগার সৈয়দপুরের সম্পদ। এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে যেমন মানববর্জ্যের কুফল থেকে পরিবেশ রক্ষা করা যাবে তেমনি এ থেকে উৎপাদিত জৈব সার কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটাবে। পাশাপাশি পৌরসভার আয়ও বাড়বে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads