শীতলক্ষ্যার পাড়ে স্বজন হারানোর আর্তনাদ

ছবি: বাংলাদেশের খবর

দুর্ঘটনা

শীতলক্ষ্যার পাড়ে স্বজন হারানোর আর্তনাদ

  • প্রকাশিত ৬ এপ্রিল, ২০২১

ইমরান আলী ও আব্দুল কাইয়ুম

সোমবার তপ্তদুপুর। কী শীত কী গরম, সেদিকে কারো নজর নেই। নজর নেই সরকারের ঘোষিত দ্বিতীয় দফার লকডাউনেরও। শীতলক্ষ্যার পাড়ে শোকের ছায়া। কারো ছেলে হারানোর শোক, কারো-বা বাবা বা মা। শীতলক্ষ্যাপাড়ে স্বজন হারানোর আর্তনাদ হূদয় ছুঁয়ে গেছে সবার। উদ্ধারকারী দল থেকে শুরু করে হাজার খানেক জড়ো হওয়া মানুষ সবার চোখেই জল ঝরেছে। স্বজনহারাদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়েছিল সেখানকার পরিবেশ। এক এক করে মরদেহগুলো বের করার সময় চোখের জল যে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের চোখের কোণে, সেটিও নজরে পড়ে অনেকের।

জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যায় এমভি হাবিব আল হাসান নামের লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় ঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জের দিকে রওনা দেয়। কয়লাঘাট এলাকায় পৌঁছালে এসকে থ্রি নামে লাইটারেজ জাহাজ নৌযানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তলিয়ে যায় লঞ্চটি। এ সময় লঞ্চটিতে ৫০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার পর সাঁতরে ২৬ জন যাত্রী তীরে ওঠেন। সে রাতেই উদ্ধার করা হয় পাঁচ নারীর মরদেহ। বাকিরা নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করেন বিআইডব্লিউটিএ, কোস্ট গার্ড, দমকল বাহিনী, নৌ ও থানা পুলিশের উদ্ধারকর্মীরা। রোববার সন্ধ্যার পর ঝড় বৃষ্টির কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়। পরে গতকাল সোমবার থেকে আবারো শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। দুপুর পর্যন্ত একে একে উদ্ধার হয় আরো ২৩ জনের মরদেহ। দুই দিনে মোট ২৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ডুবে যাওয়া লঞ্চটিও। মুন্সীগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌ-দুর্ঘটনা ঘটছেই। আর এতে প্রাণ হারায় বেশিরভাগ মুন্সীগঞ্জের মানুষ। কারণ মুন্সীগঞ্জের বেশিরভাগ মানুষই নৌপথে যাতায়াত করেন। দুর্ঘটনা এড়াতে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও রাতের বেলা লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ করা যায়নি। একের পর এক বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ হয়।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতীয় সংসদেও কথা বলেছি। তবু মৃত্যুর মিছিল থামানো যায়নি। তিনি প্রশাসনের কাছে শীতলক্ষ্যার সরু চ্যানেলে লাইটার জাহাজ নোঙর করে রাখা বন্ধ করা এবং নৌদুর্ঘটনা রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক জানান, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করে মরদেহগুলো ফায়ার সার্ভিসকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা শনাক্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেবেন।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকার সহকারী পরিচালক সালেহ উদ্দিন  জানান,  ইতোমধ্যে আমরা ২৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছি।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, লঞ্চডুবির ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে লাশ দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

লঞ্চের নিচতলা থেকে বেঁচে ফেরা খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘জাহাজটি পেছন থেকে লঞ্চটিকে টেনে সামনের দিকে নিয়ে যায়। লঞ্চের উপরে যারা ছিল তারা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল। কিন্তু যারা ভেতরে ছিল, বের হতে পারেনি।’ 

স্বজনহারাদের কান্না

গতকাল সোমবার সকাল থেকেই নিখোঁজদের খোঁজে শীতলক্ষ্যার পাড়ে স্বজনদের ভিড় জমে। সবার মাঝে স্বজন হারানোর কষ্ট। জীবিত না পেলেও অন্তত লাশ পাওয়ার আশায় নদীর পাড়ে অপেক্ষা করে তারা। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে উদ্ধার করে তীরে আনার পর একে একে ভেতর থেকে বের করা হয় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৩ জনের মৃতদেহ। তখন এক বেদনাবিধুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনহারাদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

ভাবি ফাকিনা বেগম, ভাতিজি বীথি ও ১১ মাসের নাতিকে খুঁজতে মুন্সীগঞ্জ থেকে এসেছেন কৃষক মিঠু মাঝি। তিনি বলেন, ‘তারা নারায়ণগঞ্জে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাইতে আইছিল। যাওয়ার সময় এই ঘটনার শিকার হইছে। তাদের নিখোঁজের খবর শুইন্না বড় ভাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাই তারে মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করছি।’

মা-বাবাকে খুঁজতে এসেছেন পাঁচ বোন। এর মধ্যে একজন বলেন, ‘বাবা-মা ডাক্তার দেখাইতে নারায়ণগঞ্জে আইছিল। তারা লঞ্চের নিচতলায় আছিল। লঞ্চ ডুবার সময় আমাগো গ্রামের একজন সাঁতরায় পাড়ে গেছে। পরে তিনি গ্রামে ফোন কইরা জানাইছে ঘটনা। আমরা এখনো মা-বাবারে খুঁইজা পাই নাই।’

দেড় বছরের ছেলেকে খুঁজছেন মো. সোহান। তিনি বলেন, ‘আমার শিশুসন্তান আজমীর তার দাদার সঙ্গে নানির বাড়িতে যাচ্ছিল। লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর থেকে আমার ছেলে আর বাবা নিখোঁজ, তাদের কোথাও পাচ্ছি না।’

দশ কারণে দুর্ঘটনা

এদিকে দেশের নৌ-দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কাজ করছে সোসাইটি অব মাস্টার মেরিনার্স। তারা লঞ্চ দুর্ঘটনার ১০টি কারণ চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো- ৩৪ শতাংশ লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে, ১৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে মাস্টার-চালকের গাফিলতিতে, ১৫ শতাংশ ঘটে মাস্টারবিহীন চালনার জন্য, ৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে চরায় আটকানো ও প্রবল স্রোতের কারণে, কিছু চরে ওঠার কারণে এবং বিরূপ আবহাওয়ার জন্য, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ নির্মাণজনিত ত্রুটির জন্য, আগুন লাগা, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকা এবং  দুটি লঞ্চে সংঘর্ষে।

সোসাইটি অব মাস্টার মেরিনার্সের সভাপতি ক্যাপ্টেন এম আনাম চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন লঞ্চ দুর্ঘটনার গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশে লঞ্চ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে প্রায় ৭০০টি। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ছয় হাজার, আহত হয়েছেন অসংখ্য আর নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ২ হাজারের বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লঞ্চ দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ আহত-নিহত হওয়া ছাড়াও নিখোঁজ হয়েছেন অনেকে, যাদের লাশ আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন সময়ে লঞ্চ দুর্ঘটনার কারণে নিশ্চিহ্ন হয়েছে অসংখ্য পরিবার। আবার লঞ্চডুবিতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে উদ্বাস্তু হতে বাধ্য হয়েছে অসংখ্য পরিবার।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার নৌপথ রয়েছে, যার বেশিরভাগই অরক্ষিত। এসব নৌপথে বৈধভাবে প্রায় ৩ হাজার ছোট-বড় লঞ্চ, জাহাজ চললেও অনুমোদনহীনভাবে চলছে কয়েকগুণ নৌযান। তাছাড়া নৌপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যতসংখ্যক নৌ-পুলিশ থাকা প্রয়োজন তা নেই। এসব নৌ-পুলিশকে বিআইডব্লিউটিএ’র কিছু সার্ভে জাহাজ ও স্পিডবোট দেওয়া হলেও এসব নৌযানে নৌপথের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন আধুনিক যান।

প্রতিবছর লঞ্চ দুর্ঘটনার ঘটনাসহ হতাহতের ঘটনা ঘটলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনা রোধে একগুচ্ছ সুপারিশ করা হয়। এরপর রহস্যজনক কারণে বিষয়টি আর সামনের দিকে ঠিক ওইভাবে এগোয় না। দেশের কোথাও যখন বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটে, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে নড়াচড়া শুরু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে এ নিয়ে আর তেমন কিছু একটা হয় না। অনেক সময় দুর্ঘটনায় জন্য দায়ী ব্যক্তিরা আটক হলেও শেষ পর্যন্ত আইনের ফাকফোকরে বা রাজনৈতিক প্রভাবে কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে ছাড় পেয়ে যায়। লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী লঞ্চ মালিক কিংবা মাস্টারদের বিরুদ্ধে মামলা হয় নৌ-আদালতে। বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (আইএসও-১৯৭৬) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষ দোষী ব্যক্তিদের পক্ষে শক্ত ব্যবস্থা নিতে পারে না। মামলাগুলো দীর্ঘদিন চলার পর নিষ্পত্তি হলেও দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে এমন নজির খুবই কম। তাছাড়া দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সরাসরি নৌ-আদালতে মামলা করতে পারেন না। তাকে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলা করতে হয়। ফলে দায়ী কেউ-ই শেষ পর্যন্ত তেমন কোনো শাস্তি পায় না। বিদ্যমান আইনে লঞ্চমালিক ও চালকদের শাস্তির যে বিধান আছে, তা কার্যকর করা খুবই কঠিন। তাছাড়া এই আইনের ফাঁকফোকরও অনেক বেশি। ফলে আইটির সংশোধন হওয়াটা জরুরি।

নৌদুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ

দেশের নৌপথসমূহে লঞ্চ দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌদুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচারসহ নদীবন্দর টার্মিনালে মেগাফোনের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো জরুরি। অতিরিক্ত যাত্রীবহন রোধ করা, লঞ্চে জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামাদিসহ সার্ভে সনদ অনুযায়ী মাস্টার ও ড্রাইভার যথাযথভাবে আছে কি না নিশ্চিত করাও জরুরি। কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করলে এবং ওই লঞ্চে জীবন রক্ষাকারী পর্যাপ্ত পরিমাণ সরঞ্জাম না থাকলে ওই লঞ্চের যাত্রা স্থগিত করাসহ সংশ্লিষ্ট নৌ-আদালতে মামলা দায়ের করা আবশ্যক। আর নৌ-দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযানের ফিটনেস পরীক্ষাপূর্বক ফিটনেস সংবলিত নৌযানগুলোতে দক্ষ ও দায়িত্ববান চালক নিযুক্ত করা অতি জরুরি।

সেই সঙ্গে নৌপথে চলাচলকারী নৌযানে কর্মরত মাস্টার, ড্রাইভার, সুকানি ও আনসারদের জন্য নিয়মিত নদী বন্দরগুলোতে নৌ-নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মশালার আয়োজন করাও আবশ্যক। দেশের বিভিন্ন নৌপথে নিরাপদে চলাচলের স্বার্থে পর্যাপ্ত পরিমাণে আধুনিক নৌসহায়ক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা দরকার। পাশাপাশি নৌপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত সংখ্যক সৎ, মেধাবী ও দক্ষ নৌপুলিশ নিয়োগ দেওয়া। এসবের পাশাপাশি ঈদসহ বিভিন্ন ছুটি ও উৎসবের সময়ে অতিরিক্ত যাত্রীবহন পরিহারের লক্ষ্যে স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিসের সুব্যবস্থা করাও আবশ্যক।

কোথাও লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধারাভিযানের লক্ষ্যে প্রয়োজন আধুনিক জাহাজ, স্পিডবোট, হেলিকপ্টার ও সিপ্লেন। তাছাড়া দেশের বিশাল নৌপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে সঠিক নকশা অনুযায়ী লঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে কি-না, লঞ্চের ফিটনেস ঠিক আছে কি-না, নিয়মিত স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তদারকি করা আবশ্যক। সর্বোপরি, যাত্রীদেরও এক্ষেত্রে হতে হবে আরো বেশি সতর্ক। তারা যেন কখনোই অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে লঞ্চে না ওঠেন। উপরোক্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গণমাধ্যম ও জনগণ কর্তৃক সুনিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশে লঞ্চডুবি তথা লঞ্চ দুর্ঘটনা নিশ্চয়ই অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করে সোসাইটি অব মাস্টার মেরিনার্স।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads