শত বছরের হাটে সপ্তাহে বিক্রি হয় ১০ হাজার মণ পাট

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

জাতীয়

শত বছরের পুরনো হাটে সপ্তাহে বিক্রি হয় ১০ হাজার মণ পাট

  • মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় হাটে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার মণ পাট বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার এই হাটে হাট বসে। মুন্সিগঞ্জ ছাড়াও পাশের ফরিদপুর মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর জেলা হতে কৃষকেরা পাট নিয়ে আসেন এই হাটে।

শত বছরের পুরনো এই হাটটি বেশ কয়েকবার পদ্মা নদী ভাঙ্গনের শিকার হলেও বারবার স্থানান্তরিত হয়ে সেই পদ্মার পাড়েই দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায়। পদ্মা নদীর পাড়ে যাতায়াতের সুবিধার কারণে দূর হতে দূরান্ত হতে কৃষকেরা ট্রলারে,লঞ্চে, নৌকায় পাট বোঝাই করে নিয়ে আসেন এই হাটে।

তারপর এই হাট হতে পাইকাররা পাট কিনে পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলায় নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। এই হাটে পাট কিনে থাকেন কয়েক শত পাইকার। শুক্রবার এবং সোমবার সকাল হলেই তাদের হাকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে হাটটি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুর, মাদারীপুর চাঁদপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রলার ভর্তি পাট বিক্রির জন্য দিঘিরপাড় হাটে নিয়ে এসেছে কৃষকরা। এছাড়াও মুন্সীগঞ্জ জেলা সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাট বিক্রির জন্য এসেছে কৃষক। আবার বিভিন্ন জেলা থেকে পাট ক্রয়ের জন্যও এসেছে পাইকাররা। এ অঞ্চলের পাট ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মিল-কারখানায় বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা।

পাট বিক্রেতা লুৎফর জানান, এই হাটে পাটের দাম ভালো পাওয়া যায়। বেশি দামে বিক্রির জন্য এ হাটে পাট নিয়ে এসেছি। দাম ভাল থাকায় প্রতি মণ পাট বিক্রি করছি ৩ হাজার ১শত টাকা। আর আমাদের একমন পাটে খরচ হয়েছে ১৩ থেকে ১৪শ' টাকা।

পাট কিনতে আসা শাহিন বেপারী জানান, এ হাটে ভাল মানের সাদা পাট ও তোষা পাট বিক্রি হয়। পাটের বাজার বেশি হওয়ায় কৃষক লাভবান। তবে পাটের অনেক মিল বন্ধ থাকায় পাট বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে। মিল কারখানা খুললে সমস্যা কেটে যাবে।

অপর পাটের ক্রেতা মাসুম জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহের পাটের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে তিন হাজার টাকা করে পাট ক্রয় করলেও এ সপ্তাহে ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা মণ দরে ক্রয় করেছেন।

এ ব্যাপারে দিঘিরপার বাজারের সেক্রেটারি (সচিব) মফিজুল মোল্লা বলেন ,এই বাজারে প্রতি শুক্রবার ৫ থেকে ৬ হাজার মণ এবং সোমবার ৩ থেকে ৪ হাজার মণ পাট বিক্রি হয়ে থাকে। সবমিলিয়ে সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার মণ পাট বিক্রি হয়।প্রায় একশত বছর যাবত এই বাজারে পাট বিক্রি হয়ে আসছে। মুন্সিগঞ্জ ছাড়াও ফরিদপুর মাদারীপুর,

শরীয়তপুর, চাঁদপুর জেলার চাষিরা পাট নিয়ে এই বাজারে আসেন। সে আরও জানায়, পদ্মা নদী সংলগ্ন বাজারটি গত কয়েক দশকে চার থেকে পাঁচবার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। কিন্তু বারবার নদীর পাশে বাজারটিকে স্থাপন করা হয়েছে। নদীর পাশে যাতায়াতের সুবিধার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে এই বাজারে পাট নিয়ে আসে চাষীরা । আর এখান থেকে পাইকাররা কিনে নিয়ে পাশের নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পাইকারি দরে পাট বিক্রি করে থাকেন।

এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার বলেন,এ বছর টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ৭৩৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল। পাটের দাম ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads