নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া মুমতাহিনা টয়া বিয়ে করেছেন লিপইয়ারের দিনে। বর অভিনেতা শাওন। সর্বশেষ ‘কাঠবিড়ালী’ ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি।
বিয়ের জন্য ২৯ ফেব্রুয়ারি বেছে নিয়েছেন তারা। লিপইয়ার স্মরণীয় করে রাখতেই গতকাল বিয়ে করছেন বলে জানিয়েছেন টয়া। খুব বেশি আয়োজন করেননি বিয়েতে। কেবল স্বল্পসংখ্যক কাছের বন্ধু এবং আত্মীয়দের নিয়ে এই বিয়ের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঘরোয়া আয়োজনে টয়ার মেহেদি উৎসবে উপস্থিত ছিলেন সাফা কবির, সিয়ামের পত্নী অবন্তী, শাওনের বন্ধু, টয়ার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা।
টয়া এবং শাওন অল্প সময়ে কাছের বন্ধুতে পরিণত হন। এরপর তারা ২০১৯ সালের শেষের দিকে ভারতে একটি অভিনয় প্রশিক্ষণ কর্মশালাতে অংশ নিতে যান। সেখানে তাদের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। এবং ধীরে ধীরে তারা একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে ভাবা শুরু করেন।
২০১৯ সালের শেষের দিকে পরিবারের সদস্যদের অনুমতিও নিয়ে নেন তারা। বাকি ছিল শুধু ঘোষণা দেওয়ার। জানুয়ারি মাসে শাওনের জন্মদিন উপলক্ষে একটি ‘চমকের’ আয়োজন করেন টয়া। কিন্তু সেই চমকেই নতুন চমক যোগ করে শাওন টয়াকে বিয়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেন সবার সামনে।
একজন মডেল হিসেবে টয়া তার প্রথম দুই বিজ্ঞাপনেই আলোচনায় আসেন। বিশেষত মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনায় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের সঙ্গে গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনে তার বলা সংলাপ, এ তো অসম্ভব! ২০১৩ সালে বেশ দর্শকপ্রিয়তা পায়। একই সময়ে টয়াকে কিসলুর নির্দেশনায় ফেমিকনের বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে দেখা গেছে। এরপর ফ্রুটফিল, প্রাণ বাবলগামসহ বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন জনপ্রিয় এই মডেল ও অভিনেত্রী।
২০১০ সালের ‘লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগিতা’র শীর্ষ পাঁচ-এ থাকা টয়া প্রথম অভিনয় করেন অপূর্বর বিপরীতে রুমানা রশীদ ঈশিতার নির্দেশনায় ‘অদেখা মেঘের কাব্য’ টেলিফিল্মে। এটি ২০১১ সালে ভালোবাসা দিবসে চ্যানেল আইতে প্রচার হয়। টয়া অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক আফসানা মিমি পরিচালিত ‘পৌষ ফাগুনের পালা’। তার অভিনীত প্রথম টেলিফিল্ম ‘বাহিনী’। টিভি পর্দায় ‘ছায়াবৃতা’, ‘ইউনিভার্সিটি’, ‘টো টো কোম্পানি’ ও ‘ললিতা’ নামে ধারাবাহিক নাটক এবং ‘ভালোবাসা ১০১’, ‘নোয়াখালী টু চিটাগাং জার্নি অব ম্যারেজ’, ‘না শুনতে রাজি না’, আত্মসাৎ, ‘দ্য ফাইনাল চ্যাপ্টার’, ‘অনেস্টি ইজ দ্য বেস্ট পলিসি’ নামে আলোচিত নাটকে অভিনয় করেন।
এ ছাড়াও এই প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী ‘আমাদের শার্লক হোমস’-এ অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পান।
অনেক চরিত্রেই তো অভিনয় করেছেন, ভবিষ্যতে কোন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে চান? এমন প্রশ্নের জবাবে টয়া বলেন, ‘আমি এমন চরিত্রে সব সময় কাজ করতে চাই, যেখানে আমি ব্যক্তি টয়া নই। অভিনয়কে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রগুলো আমার বেশি প্রিয়।’
নোয়াখালীর মেয়ে টয়া ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে ভিন্নধারার লাইভ শোর উপস্থাপনাও করছেন পুরোদমে।
বাকপটু এ মডেল অভিনেত্রী বন্ধুমহলে ‘টমবয় হিসেবে বেশ পরিচিত। সেই ছোটবেলা থেকেই টয়ার চেহারা আর চালচলন ছিল অনেকটা ছেলেদের মতো। কথায় যেমন পটু তেমনি চঞ্চল। তুখোড় আড্ডাবাজ। শুটিং স্পটের যেখানেই হইহুল্লোড় সেখানেই টয়া! চুপচাপ থাকতে একদম পছন্দ করেন না। লাফালাফিতে তার জুড়ি মেলে না। সে কারণেই নাটকের ডানপিটে চরিত্রগুলোতে পরিচালকদের প্রথম পছন্দ টয়া। অভিনয়ের আইডল হিসেবে তিনি মনেপ্রাণে মানেন অভিনেত্রী তিশাকে। পছন্দের পোশাক হিসেবে শাড়ি আর বিভিন্ন ক্যাজুয়াল পোশাকই পরতে ভালোবাসেন। ঘুরতে পছন্দ করেন দেশ-বিদেশের যেকোনো প্রান্তে। অবসর পেলে বিভিন্ন বই পড়ে, মুভি দেখে বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাবাজি করে সময় পার করে দেন। আর মুভি যদি হয় আঞ্জেলিনা জোলির, তা হলে তো কথাই নেই!





