ভারত সংলগ্ন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাটে যেসব ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে, তার মধ্যে মোগল আমলের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, তুষারভাণ্ডার জমিদারবাড়ি, কাকিনা জমিদারবাড়ি, বুড়িমারী স্থলবন্দর, মুক্তিযুদ্ধে ৬ নং সেক্টর হেড কোয়ার্টার ও তিনবিঘা করিডোর উল্লেখযোগ্য।
তিনবিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা বিলুপ্ত ছিটমহল
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল। ১৯৮৫ সালে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ইউনিয়ন হিসেবে পরিগণিত হয়। ১৯৮৯ সালে ইউনিয়নটির শুভ উদ্বোধন হয়। একসময় সেখানে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশিরা এক ঘণ্টা পরপর সুযোগ পেত। বর্তমানে সেই সমস্যা আর নেই। তাছাড়া বর্তমানে তিনবিঘা করিডোর এলাকাটি পরিণত হয়েছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব বয়সের মানুষকেই এখানে দেখা যায়।
ঐতিহ্যবাহী মসজিদ
১১৭৬ সালে মোগল সুবাদার মনছুর খাঁ মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। জনশ্রুতি আছে, মনছুর খাঁর দাড়ি না থাকায় মসজিদটি নিদাড়িয়া মসজিদ নামে পরিচিতি পায়। এই মসজিদটি দেখার জন্য সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে আসেন। যাতায়াতের জন্য রয়েছে সিএনজি, অটোরিকশা ও বাস সার্ভিস।
তুষভাণ্ডার জমিদারবাড়ি
লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুষারভাণ্ডার ইউনিয়নে তুষভাণ্ডার জমিদারবাড়িটি অবস্থিত। তৎকালে রাজবাড়িতে তুষ দিয়ে বিভিন্ন যজ্ঞানুষ্ঠান হতো। সংগৃহীত তুষের স্তূপ থেকেই বাড়িটি তুষভাণ্ডার নামে পরিচিতি পায়। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থেকে বাসযোগে সহজেই যাওয়া যায় জমিদারবাড়িতে। বাড়িটি দেখার জন্য সারা দেশ থেকে লোকজনের সমাগম ঘটে
কাকিনা জমিদারবাড়ি
কাকিনা জমিদার ছিলেন বৃহত্তর রংপুর জেলার অন্যতম জমিদার। কাকিনা জমিদারি কাকিনা রাজবাড়ি নামে পরিচিত ছিল। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে গড়ে ওঠা জমিদারবাড়িটি আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জমিদারের ‘হাওয়াখানা’। জমিদারবাড়িতে সড়ক এবং রেলপথেও যাওয়া যায়।
বুড়িমারী স্থলবন্দর
বুড়িমারী স্থলবন্দর বাংলাদেশের শেষপ্রান্তে লালমনিরহাট জেলার অন্যতম স্থলবন্দর। এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই আসেন। সড়ক এবং রেলপথেও বন্দরটিতে যাওয়া যায়।
৬ নং সেক্টর বুড়িমারী
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সেক্টর হেড কোয়ার্টারগুলোর মধ্যে অন্যতম ৬ নং সেক্টর হেড কোয়ার্টার। সেক্টর হেড কোয়ার্টারটি তৎকালীন বুড়িমারী হাসর উদ্দিন দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়। সেক্টর ভবনের কাছে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিসৌধ। ঐতিহাসিক জায়গাটি দেখতে দেশপ্রেমিকরা এখানে আসেন। যাতায়াতের জন্য রয়েছে বাস সার্ভিস।