ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। রাজধানীর প্রতিটা শপিংমল ও মার্কেটে চলছে ঈদ কেনাকাটার ধুম। এ কয়দিনে লকডাউনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা দোকানিদের। ফলে কোনো ক্রেতাকে ছাড়তে রাজি নন তারা।
গতকাল রোববার রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, নূরজাহান মার্কেট, মৌচাকও মালিবাগ এলাকায় দেখা যায়, মার্কেটগুলোতে করোনাভাইরাস ভীতি উপেক্ষা করে মার্কেটে ভিড় করছেন ক্রেতারা। চলছে কেনাকাটার ধুম। ক্রেতাদের ভিড়ে উধাও স্বাস্থ্যবিধি। ক্রেতাদের মতো স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে গা নেই ব্যবসায়ীদেরও। তারা আছেন বিক্রির লক্ষ্য পূরণ করা নিয়ে। তাই স্বল্প লাভে বিক্রি করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মার্কেট খোলার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের পরিকল্পনার ৫০ ভাগ ব্যবসা হয়েছে। যদি আর চারদিন ঠিকমতো বেচাকেনা হয় তবে লকডাউনের ক্ষতি তারা পুষিয়ে নিতে পারবেন।
গাউছিয়া মার্কেটের দোকানি বুলবুল হোসেন বলেন, কাস্টমারের চাপ আছে ভালোই। তবে সবাই যে কিনবে এমন না। লাভ হচ্ছে কিন্তু সেটা স্বাভাবিক সময়ের মতো নয়। আগের মতো দরদাম করি না এখন। অনেক কম লাভে বেচে দিচ্ছি।’
ঢাকা কলেজের বিপরীতে ছেলেদের জিন্স আর শার্টের জন্য প্রসিদ্ধ বদরুদ্দোজা মার্কেটের ব্যবসায়ী হাছিব আলম বলেন, গত কয়েকদিনে ভালো ব্যবসা হয়েছে। মার্কেটে ক্রেতার চাপ আছে। যদি এইভাবে আরো চারদিন ব্যবসা করতে পারি তবে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।
হাছিব আলমের দোকানের কর্মচারী জানান, ‘আল্লাহ দিলে ভালো বিক্রি আছে। বাঙালির তো আর চাহিদার শেষ নাই। তাই আপনারে কেউ কখনো বলবে না যে ভালো ব্যবসা হচ্ছে। আমাগো স্বল্প লাভ হইলেই হবে। এই মার্কেটে সব দোকানেই কমবেশি বেচাকেনা হচ্ছে।’
দোকানিরা বলছেন, অনেকেই এখন আর প্রয়োজনের বাইরে কিনতে চান না। আগে ঈদ মানে অনেক শপিং ছিল। এখন আর সেটা নেই। তবে ঈদের আগে যদি কোনো ঝামেলা না হয় তাহলে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।
ঈদের কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি ভিড় নিউ মার্কেট ও গাউছিয়াকেন্দ্রিক ফুটপাতগুলোতে। দোকানিদের দম ফেলার সময় নেই। বিভিন্নভাবে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার নিরন্তর প্রচেষ্টা তাদের।
নীলক্ষেত মোড় থেকে শুরু করে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত ফুটপাতে পণ্য সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। মার্কেটের বাইরে ফুটপাতকেন্দ্রিক কেনাকাটায় বেশি ব্যস্ত রয়েছেন ক্রেতারা।
ফুটপাতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে মেয়েদের গহনা, ব্যাগ ও স্যান্ডেল। ভিড় সেখানেই সবচেয়ে বেশি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই।
স্বাস্থ্যবিধি প্রসঙ্গে ফুটপাতে গহনার দোকানি আমিনুল বলেন, এহন কী আর এইসব দেখার সময় আছে ভাই। লকডাউনের ডরে মাল নিয়ে বের হতে পারিনি। এখন একটু বেচাবিক্রি হচ্ছে। আল্লাই দিলে ঈদ করতে পারুম। আমাগো আর জ্বালায়েন না।
ঢাকা নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. আমিনুল হক শাহীন জানান, এখন একটু ক্রেতার চাপ বেশি। ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। দোকানিরা মাস্ক পরেই বিক্রি করছেন।
আমিনুল বলেন, নিউ মার্কেট এলাকায় ছোট ছোট অনেক মার্কেট রয়েছে। মধ্যবিত্তদের মার্কেট হওয়াতে এখানে ভিড় একটু বেশি থাকে। এখন অনেক দোকানি আর লাভের চিন্তা করেন না। আগে বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাচ্ছেন।
কেনাকাটার একই চিত্র মৌচাক মার্কেটেও। পাঞ্জাবি বিক্রেতা সনি বলেন, দুই ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যবসা করতে হবে। গতবার এই সময় আমাদের অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে গেছিল। এবার একটু ব্যবসা করার সুযোগ হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে লাভ কম করে বিক্রি করছি।





