যাদের সাথে পর্দা নেই

সংগৃহীত ছবি

ধর্ম

যাদের সাথে পর্দা নেই

  • প্রকাশিত ৩ এপ্রিল, ২০২১

রেহানা তাবাসসুম

পর্দা ফরজ হওয়া সম্পর্কে এত বেশি  কোরআন ও হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে যে, এ নিয়ে নতুন করে কিছু ভাবার অবকাশ নেই। আল্লাহ মুসলিম নারীর সম্মানে এবং দুষ্ট লোকের অশিষ্ট আচরণ থেকে তার মর্যাদা রক্ষায় পর্দা ফরজ করেছেন। পর্দা যেমন পুরুষদের রক্ষা করে নারীর ফিতনা থেকে, তেমনি নারীকেও নানা কষ্ট থেকে রক্ষা করে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর মুমিন নারীদেরকে বলো, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করবে। আর যা সাধারণভাবে দৃশ্যমান হয় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজেদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীন যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা আন-নূর, আয়াত-৩১) অন্যত্র আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘(হে নারীগণ!) তোমরা তোমাদের ঘরের (বাড়ির চতুর্সীমানার) ভেতর অবস্থান করো এবং বাইরে বের হয়োনা। যেমনিভাবে ইসলামপূর্ব জাহিলী যুগের মেয়েরা বের হতো।’ (সুরা আহযাব, আয়াত-৪৩)

আমাদের সমাজে অনেক পুরুষকে দেখা যায়-তারা এটাও জানেনা যে, কার কার সাথে দেখা করা যাবে আর কার কার সাথে নয়। এই অজ্ঞতার ফলে তারা সর্বদা গুনাহে লিপ্ত থাকে। অনেক ভালো মানুষকেও দেখা যায়, এই অজ্ঞতার কারণে কতো গুনাহ করে থাকে। সমাজে এ ব্যাপারে অনেক প্রচলিত বিষয় আছে যা ইসলামে নিষিদ্ধ। যেমন অনেকেই চাচিকে ‘বড়ো মা’ বলে সম্বোধন করে। এর ফলে তারা নিশ্চিন্তে তাদের চাচিদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে। মনে করা হয় যে, এরা তো মায়েরই মতো। অথচ তারা এটাও জানেনা যে, চাচিদের সাথে দেখা করা অন্য বেগানা মহিলাদের মতো নাজায়েজ। এমনিভাবে অনেক মহিলাও জানেনা যে, তাদের কোন কোন পুরুষের সাথে দেখা করা জায়েজ আর কোন পুরুষের সাথে দেখা করা নাজায়েজ।

ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অমুসলিমদের প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে আমরা নিজেদের আর্দশ ত্যাগ করে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি। আমাদের পরিবার ও সমাজে পশ্চিমা সমাজের ভয়াবহ উপসর্গগুলো প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে অশনিসংকেত। পশ্চিমা সভ্যতা যেসব মারণব্যাধিতে আক্রান্ত, তা থেকে যদি আমরা আমাদের পরিবার ও সমাজকে রক্ষা করতে চাই তার একমাত্র উপায় ইসলামের বিধান ও আদর্শের সামনে আত্মসমর্পণ। আমরা যদি আমাদের পরিবারিক শান্তি ফিরে পেতে চাই তাহলে নারী-পুরুষ সকলকে পর্দা-বিধানের অনুসারী হতে হবে। তাই সকলের জ্ঞাতার্থে সংক্ষেপে কিছু সূত্র উল্লেখ করা হলো। নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর দ্বারা আপনি সহজেই জানতে পারবেন-কার সাথে দেখা করতে পারবেন আর কার সাথে দেখা করতে পারবেন না।

ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক একজন পুরুষ মোট ১৪ জন নারীর সাথে দেখা করতে পারবে। তারা হলো: মায়ের মতো পাঁচজন। ১. নিজের মা, ২. দুধ মা, ৩. খালা, ৪. ফুফু ও ৫. শাশুড়ি। বোনের মতো পাঁচজন। ১. আপন বোন, ২. দুধ বোন, ৩. দাদি, ৪. নানি ও ৫. নাতনি। মেয়ের মতো চারজন। ১. নিজের মেয়ে, ২. ভাইয়ের মেয়ে, ৩. বোনের মেয়ে ও ৪. পুত্রবধু।

এমনিভাবে একজন মহিলার জন্যেও ১৪ জন পুরুষের সাথে দেখা দেওয়া বৈধ। তারা হলেন: বাবার মত পাঁচজন। ১. নিজের বাবা, ২. দুধ বাবা, ৩. চাচা, ৪. মামা ও ৫. শশুর। ভাইয়ের মতো পাঁচজন। ১. আপন ভাই, ২. দুধ ভাই, ৩. দাদা ভাই, ৪. নানা ভাই ও ৫. নাতি। ছেলের মতো চারজন। ১. নিজের ছেলে, ২. ভাইয়ের ছেলে, ৩.বোনের ছেলে ও ৪. মেয়ের জামাতা। এদের ছাড়া বাকিদের সাথে দেখা করা তো দূরের কথা, অযথা কথাবার্তা বলাও কবিরা গুনাহ। যে গুনাহ তওবা ছাড়া মাফ হয়না। তাই আসুন আমরা সকলে এই গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখিকা : আলেমা, প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads