বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপির আয় গত পাঁচ বছরে বাড়লেও মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে। তবে এই সময়ে বেড়েছে তার স্ত্রী লুৎফুন নেসা খানের সম্পদ। নির্বাচন কমিশনে মেননের দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন মেনন। তিনি গতবার একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মেনন গত পাঁচ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী। এখন তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
ইসিতে এবার মেননের দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, তার স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের মূল্যমান ১ কোটি ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৩৩৭ টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় তার মোট সম্পদ ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকার। গতবার বার্ষিক আয় ছিল সাত লাখ ৭৫ হাজার টাকা; এবার তার আয় ১২ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ টাকা। গতবার মেননের ব্যক্তিগত ঋণ ছিল ২০ লাখ টাকা, যা এবার কমে হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
২০১৪ সালে মেননের স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা লুৎফুন নেসা খানের সম্পদ ছিল ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকার, যা বেড়ে এবার হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার ৬৭০ টাকা। অর্থাৎ ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ সম্পদ বেড়েছে।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দশম সংসদ নির্বাচনের সময় মেননের স্ত্রীর নগদ টাকা ছিল ৩০ হাজার টাকা, ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল ২ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্রসহ স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ছিল ২৫ লাখ টাকা, ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণ এবং ৫ লাখ টাকা মূল্যের ৫ কাঠা জমি ছিল।
এবারের হলফনামা অনুযায়ী মেননের স্ত্রীর নামে নগদ টাকা রয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ২২০ টাকা, ব্যাংকে জমা আছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ২১০ টাকা, সঞ্চয়পত্রসহ স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৪৫ লাখ টাকা এবং এক কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার ২৪০ টাকা মূল্যের বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মেননের হাতে নগদ টাকা ছিল দেড় লাখ। আর বর্তমানে ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। আগে ব্যাংকে ১০ লাখ ২৬ হাজার টাকা জমা ছিল, যা বর্তমানে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৩ টাকা। মেননের আগে একটি টয়োটা প্রাডো এবং একটি স্টেশন ওয়াগন গাড়ি ছিল; বর্তমানে আছে একটি টয়োটা প্রাডো।