মুখ থুবড়ে পড়েছে ফারমার্স ভিলেজ মার্কেট

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

মুখ থুবড়ে পড়েছে ফারমার্স ভিলেজ মার্কেট

  • জাহাঙ্গীর আলম, মনিরামপুর (যশোর)
  • প্রকাশিত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

মণিরামপুরে ভবদহপাড়ে বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত অত্যাধুনিক ‘ফারমার্স ভিলেজ সুপার মার্কেটটি চালু হওয়ার মাত্র এক বছর যেতে না যেতেই প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই মার্কেটে এলাকার আড়াই হাজার কৃষক তাদের উৎপাদিত মাছ, সবজি ও দুধ ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন। কিন্তু মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাব ও কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন শর্তারোপের কারণে ইতোমধ্যে পাইকাররা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে ক্রেতার অভাবে বিশেষ করে প্রান্তিক চাষিরা দূর-দূরান্তের মার্কেটে যেতে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন।

জানা গেছে, নেদারল্যান্ডস সরকার সলিডারিডেড নেটওয়ার্ক এশিয়ার অর্থায়নে ও জাগরণী চক্রের তত্ত্বাবধানে উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের পাঁচাকড়ি-নয়া বাজারের পাশে এক একর ৫৪ শতক জমির ওপর প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয় অত্যাধুনিক ফারমার্স ভিলেজ সুপার মার্কেট। ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক শুরু হয় মার্কেটটির কার্যক্রম। এই মার্কেটে প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রের ব্যবস্থা রয়েছে। মার্কেটের আওতায় রয়েছে এলাকার আড়াই হাজার কৃষক। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে মাছ, সবজি এবং দুধ ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন পাইকারদের কাছে। এখানে মাছের আড়ত রয়েছে ১২টি, সবজির আড়ত আটটি ও পাঁচ হাজার লিটার দুধের দুটি চিলার রয়েছে। এছাড়া মাছ একুয়া প্রসসিং জোন, হর্টি প্রসেসিং রুম। চাষিদের উৎপাদিত মাছ ও সবজির সঠিক পরিমাপ করতে রয়েছে ডিজিটাল চার্টার মেশিন। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য রয়েছে ৩শ কিলো ওয়াটের নিজস্ব সাব স্টেশন। রয়েছে ১২শ ফিটের দুটি ডিপটিউবওয়েল, ৮০ ফিটের একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট টাওয়ার। এখানে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে রয়েছে ব্যাংক এশিয়ার (এজেন্ট ব্যাকিং) একটি বুথ। প্রাচীরবেষ্টিত এ মার্কেটের নিরাপত্তা বিধানে মোতায়েন রয়েছে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরী। এতসব সুবিধা থাকার পরও মাত্র এক বছরের মাথায় বিলাসবহুল এ মার্কেটটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে মাছের ১২টি আড়ৎ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পাইকারদের অভাবে প্রান্তিক মাছ চাষিরা এ মার্কেটে মাছ বিক্রি করতে পারছেন না। তবে পাইকাররা এ ব্যাপারে তাদের ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। মেসার্স রাখি ফিসের মালিক অন্ত মল্লিক জানান, একে তো করোনার প্রাদুর্ভাব তার ওপর ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্র, ঘরভাড়া, লভ্যাংশের উচ্চহারে কমিশন আদায়সহ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন শর্তারোপের কারণে এ মার্কেটটিতে ব্যবসা করা সম্ভব হয়নি। ফলে আড়ত বন্ধ করতে তিনি বাধ্য হয়েছেন। একই অভিযোগে বিসমিল্লাহ ফিস, ভাই ভাই ফিশ, জামান ফিশসহ সকল আড়তদার ব্যবসা বন্ধ করে দেন।

নেহালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজমুছ সাদত জানান, ভবদহ এলাকায় ছোট-বড় মিলে মোট প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মাছের ঘের রয়েছে। চেয়ারম্যানের দাবি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন শর্তারোপের কারণে পাইকাররা ব্যবসায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে এলাকার সাধারন চাষিরা তাদের উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করতে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে ফারমার্স ভিলেজ মার্কেটের কর্মকর্তা এবং জাগরণী চক্রের প্রোগ্রামার ড. আবুল ফজল জানান, মূলত যাতায়াতের সড়কটি বেহালদশা অত্যন্ত খারাপ হওয়া ও ডিজিটাল ওয়েট মেশিন থাকার কারণেই পাইকাররা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। অন্যদিকে ভবদহ এলাকায় সবজি চাষ স্বল্প পরিমাণে হওয়ায় এখানে সবজি কেনাবেচা হয় না। তবে প্রতিদিন এখানে চাষিরা এক হাজার লিটার দুধ বিক্রি করে থাকেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads