জাতীয়

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১৩, আহত ৫৯৮

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ৫ এপ্রিল, ২০২১

চলতি বছরের মার্চে দেশে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১৩ জন নিহত এবং ৫৯৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৩ জন শিশু এবং ৭৮ জন নারী বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

আজ সোমবার (৫ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ১৩৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৭ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৮.৬৫ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৩.৭৪ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১৩৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৬.৫১ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৮২ জন, অর্থাৎ ১৫.৯৮ শতাংশ। এই সময়ে ২টি নৌ-দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। ১৫টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন বলেও জানানা ফাউন্ডেশনটি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন বলে জানান।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৪৭ জন (২৮.৬৫%), বাস যাত্রী ৩০ জন (৫.৮৪%), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি যাত্রী ৫১ জন (৯.৯৪%), মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার যাত্রী ৫০ জন (৯.৭৪%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (সিএনজি-ইজিবাইক-অটোরিকশা-টেম্পু-মিশুক) ৮১ জন (১৫.৭৪%), নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র ও বাইসাইকেল আরোহী ১৮ জন (৩.৫০%) নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন নিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলছেন, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৭২টি (৪২.০৫%) জাতীয় মহাসড়কে, ১১৬টি (২৮.৩৬%) আঞ্চলিক সড়কে, ৭৩টি (১৭.৮৪%) গ্রামীণ সড়কে, ৩৬টি (৮.৮০%) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ১২টি (২.৯৩%) সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার ধরন নিয়ে বলা হয়, দুর্ঘটনাসমূহের ৯১টি (২২.২৪%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৪২টি (৩৪.৭১%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৪টি (৩২.৭৬%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ২৯টি (৭.০৯%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৩টি (৩.১৭%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২৭.৫৪ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ৬.১৩ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার ৪.০৪ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১১.০৭ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২১.৫৫ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্ যান-লেগুনা-টেম্পু-মিশুক) ১৭.৫১ শতাংশ, নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র- বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা ৮.৯৮ শতাংশ এবং অন্যান্য (মাটিকাটা ট্রাক্টর-ড্রাম ট্রাক-লাটাহাম্বা-তেলবাহী লরি-পাওয়ারটিলার-কন্টেইনার-কোস্টার-ঠেসার) ৩.৫৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা সম্পর্কে বলা হয়, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬৬৮টি। (ট্রাক ১২৬, বাস ৭৪, কাভার্ডভ্যান ২১, পিকআপ ৩৭, লরি ৫, ট্রলি ২০, ট্রাক্টর ১৬, তেলবাহী লরি ৩, কন্টেইনার ২, ড্রাম ট্রাক ৩, মাইক্রোবাস ১৫, প্রাইভেটকার ১৭, মোটরসাইকেল ১৪৪, ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্ যান-লেগুনা-টেম্পু-মিশুক ১১৭, নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র- ঠেসার ৪৭, বাই-সাইকেল ৫, প্যাডেল রিকশা ৯, লাটাহাম্বা ৩ এবং পাওয়াটিলার ৪টি।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৪.৬৪%, সকালে ৩৩%, দুপুরে ১৭.৬০%, বিকালে ২০.৫৩%, সন্ধ্যায় ৪.৮৮% এবং রাতে ১৯.৩১%।

প্রতিবেদনটিতে দুর্ঘটনার জেলা ও বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৯.০৯%, প্রাণহানি ২৬.৫১%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৬.৬২%, প্রাণহানি ১৮.১২%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭.১১%, প্রাণহানি ১৯.৬৮%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.৫১%, প্রাণহানি ৯.৯৪%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.১৩%, প্রাণহানি ৫.০৬%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৬২%, প্রাণহানি ৬.৪৩%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৫৭%, প্রাণহানি ৬.২৩% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.৩১%, প্রাণহানি ৮% ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১৯টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৬ জন। সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। ২১টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ জন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত। সবচেয়ে কম বাগেরহাট জেলায়। ১টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি বলেও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়।  

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সুপারিশগুলো হলো- দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করতে হবে, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমাতে হবে, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০৬টি দুর্ঘটনায় ৫১৭ জন নিহত হয়েছিলেন। প্রতিদিন নিহতের গড় ১৮ দশমিক ৪৬ জন। মার্চ মাসে প্রতিদিন নিহত হয়েছের গড়ে ১৬ দশমিক ৫৪ জন। এই হিসাবে মার্চ মাসে প্রাণহানি কমেছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। উল্লেখ্য, প্রাণহানি কমার এই হার কোনো টেকসই উন্নতি সূচক নির্দেশ করছে না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads