মাতারবাড়ীতে ভিড়েছে ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

মাতারবাড়ীতে ভিড়েছে ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’

  • কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে ভিড়েছে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা জাহাজটি মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটিতে প্রবেশ করে। পরীক্ষামূলকভাবে উন্নত চ্যানেলের মাধ্যমে মাতারবাড়ী জেটিতে সরাসরি প্রথম ভিড়েছে মালবাহী জাহাজটি। সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ সরঞ্জামও এনেছে।

দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ১২০০ মেগাওয়াট মাতারবাড়ী সুপার-ক্রিটিকেল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে। পরীক্ষামূলকভাবে সরাসরি মালবাহী মাদার ভেসেল নোঙর করা বাংলাদেশের জন্য একটি ‘বিশেষ মাইলফলক’ হিসেবে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন  পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বর্তমান সরকার সময়সাপেক্ষ, বাস্তবসম্মত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে গত ১১ বছরে ১৮ হাজার ৬০৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১৩টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩ হাজার ৫৪৮ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে এবং দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। এর পর গভীর সাগর থেকে জাহাজটি চালিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অস্থায়ীভাবে নির্মিত জেটিতে নেন বন্দরের পাইলটরা।

সি-শোর মেরিন প্রাইভেট লিমিটেডের জাহাজটির দেশীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে এনসেইন্ট স্টিমশিপ লিমিটেড এবং স্টিবেটর হিসেবে কাজ করবেন গ্রিন এন্টারপ্রাইজ। গত ২২ ডিসেম্বর পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি ইন্দোনেশিয়ার পেলাভুবন সিলেগন বন্দর থেকে স্ট্রিম জেনারেটরের যন্ত্রাংশ নিয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয় ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’।

চট্টগ্রাম বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপটেন জহিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল সোয়া ১০টার দিকে ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’ জাহাজটি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে পৌঁছায়। পর্যায়ক্রমে আরোা জাহাজ আসবে। আগেই জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। প্রবেশপথে বয় বসানো থেকে শুরু করে সব কাজ শেষ করা হয়।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। যেহেতু মাতারবাড়ী পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমা বিস্তৃত, তাই সেখানে জাহাজ ভিড়লে ‘পোর্ট অব কল’ ধরা হবে চট্টগ্রাম বন্দরকেই। অর্থাৎ যাবতীয় মাশুল চট্টগ্রাম বন্দরই পাবে। জাহাজের পাইলটিং করে চট্টগ্রাম বন্দরই। জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো সমন্বয় করতে গত ২৩ ডিসেম্বর বন্দর ভবনে একটি সভা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আসা জাহাজ কীভাবে পরিচালিত হবে তার একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা, বাংলাদেশ সরকার ও চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থায়নে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের মধ্যে।

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শরীফ বাদশা জানান, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। আজকে প্রথম বারের মত বিদেশি জাহাজ দেখতে পেলাম এরমধ্য দিয়ে একটি নতুন সম্ভবনার দ্বার উন্মোচন হলো। মহেশখালীর মানুষ যে ত্যাগ করেছে তা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। একই সাথে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের বাকি শেষ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads