কয়েকদিন আগেই কার্যকর করা হয়েছে সড়ক পরিবহনের নতুন আইন। এরপর থেকেই ঢাকাসহ দেশের সব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অফিসগুলোতে ভোগান্তি বেড়েছে। সেবাগ্রহীতার পাশাপাশি এই ভোগান্তি থেকে বাদ যাচ্ছেন না বিআরটিএ কর্মকর্তারাও।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নতুন আইন কার্যকরের পর থেকে বিআরটিএ অফিসগুলোতে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির লাইসেন্স, মালিকানা পরিবর্তনের জন্য গ্রাহকদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। হঠাৎ এ অতিরিক্ত চাপে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে উভয়পক্ষকে।
বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল ১ (মিরপুর)-এ গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ কক্ষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফাঁকা থাকে। কক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্যান্য কাজ করতে চলে যাচ্ছেন। আর সেবা পেতে আসা গ্রাহকরা সেই কক্ষের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন একটা স্বাক্ষরের আশায়।
মিরপুরে বিআরটিতে মালিকানা পরিবর্তন করতে আসা রবিউল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় বিআরটিএ অফিসে এসেছি। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দলিল ভালোভাবে লিখে এনেছি। কিন্তু আসার পর থেকেই দেখছি, অনেক ভিড়। ভিড়ের মধ্যে কাজ করা অনেক কঠিন জেনেও আমি ২০৭ নাম্বার রুমে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে যাই কাগজ নিয়ে। তিনি আমাকে বলেন, নিচে গিয়ে ১০১ নাম্বার রুমে গিয়ে কথা বলতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে রুমে কাউকেই পাইনি। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে সেই রুমের কর্মকর্তা এসে বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক নেই, পুনরায় লিখে আনতে হবে। দুই ঘণ্টা পরে এসে যদি বলেন কাগজপত্র ঠিক নেই, তাহলে আপনার অবস্থা কী হবে, বলেন? পরে পুনরায় সব কিছু ঠিকঠাক করে গিয়ে দেখি, সেই কর্মকর্তা আবারো তার রুমে নেই। তিনি নাকি লাঞ্চ করতে গেছেন!
এ প্রসঙ্গে কথা হয় বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. ফারহানুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের আবেদনে আমরা স্বাক্ষর দিই মাত্র তিনজন লোক। আবার মাঝে মাঝে কারো কারো হেড অফিসে যেতে হয় কাজের জন্য। তখন আসলে চাপ সামাল দেওয়া অনেক কষ্টের। জনবল কিছুটা কম থাকায় মাঝে মাঝে গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হয়। তবে আমরা চেষ্টা করি, অতি দ্রুত গ্রাহকদের সেবা প্রদানে। আর নতুন সড়ক আইন হওয়ার পর থেকে চাপ অনেকগুণ বেড়েছে।
একই প্রসঙ্গে বিআরটিএ’র উপপরিচালক (ইঞ্জি.) শফিকুজ্জামান ভূঞা বলেন, নতুন সড়ক আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে আমাদের এখানে অনেক বেশি চাপ বেড়েছে, যা সামাল দিতে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হিমশিম খাচ্ছেন। তবে আমাদের এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের অফিস করানো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের জনবল দরকার, এই মর্মে আমরা গত সপ্তাহে চেয়ারম্যান মহোদয়কে আমাদের ডিভিশন অফিসের মাধ্যমে একটি চিঠি দিয়েছি। আসা করছি, অতি শিগগিরই জনবল পেয়ে যাব। তবে যে জনবল আছে, আমরা সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।





