করােনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরােধে দেশব্যাপী ঘােষিত লকডাউন অমান্য করে ভােলা-লক্ষ্মীপুর রুটে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল করছে।
আজ সােমবার সকাল থেকে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর ঘাট থেকে বিভিন্ন জেলা হয়ে শত শত মানুষ গাদাগাদি করে ট্রলারে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে ভােলার ইলিশা ঘাটে আসছে। এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌ-পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন ট্রলার চালককে আটক করেছে। এসময় তাদের তিনটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কুমার পাল।
এদিকে লকডাউনের কারণে ভােলা শহরে সকল মার্কেট ও বিপনি বিতাণ বন্ধ থাকলেও কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়িরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেচা-কেনা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জরুরি প্রয়ােজনে রিক্সায় একজন পরিবহনের কথা থাকলেও একাধিক যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি অকারনে রাস্তার দুই পাশে উৎসুক কিছু মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আবার অনেকে মাস্ক ছাড়াই রাস্তায় চলাফেরা করছে। এতে করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে রোববার বিকেলে দেশব্যাপী সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউন কার্যকর করার লক্ষ্যে ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় লকডাউন বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সকল প্রকার গণপরিবহন বন্ধ। তবে জরুরী প্রয়োজনে তিন চাকার রিকশায় একজন যাত্রী চলাচল করতে পারবে। মোটরসাইকেলে চালক ব্যতীত অন্য কাউকে বহন করা যাবে না।
এছাড়া লকডাউন চলাকালীন সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ, স্পিডবোট ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকবে। ভোলা-লক্ষ্মীপুর ও ভোলা-বরিশাল ফেরি সার্ভিস শুধুমাত্র পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করবে। তবে ইমারজেন্সি রোগীর ক্ষেত্রে জরুরী সেবার আওতায় প্রশাসনের অনুমতি ক্রমে স্প্রিড বোর্ড ব্যবহার করা যাবে।
সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খাদ্যসামগ্রী, ঔষধ, কাচাবাজার খোলা রাখা যাবে, খাবার হোটেলে বসে খাওয়া যাবে না, খাদ্য বিক্রি বা অনলাইনে খাদ্য সরবরাহ করা যাবে। সকল ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকবে, তবে অনলাইনে পাইকারী বা খুচরা লেনদেন চলতে পারবে। একই ভাবে ভোগ্যপন্য বিনোদন কেন্দ্র, থিয়েটার, সিনেমা হল বন্ধ থাকবে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব ধরনের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখা যাবে।





