ভাতহীনকে ঘরে রাখবেন কীভাবে

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

ভাতহীনকে ঘরে রাখবেন কীভাবে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ এপ্রিল, ২০২১

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক লকডাউনের কথা সরকার বললেও তা পরিকল্পনাহীন বলে মনে করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের খাওয়ার কী ব্যবস্থা করছেন? এই লোকগুলোকে তো ঘরে রাখতে পারবেন না। যার পেটে ভাত নেই তাকে লকডাউন দিয়ে কী করবেন?

সরকার ঘোষিত লকডাউন শুরুর আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত ও রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় বুধবার থেকে এক সপ্তাহ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এই সময়ে সব অফিস, আদালত, ব্যাংক, গাড়ি চলাচল সব বন্ধ থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতেও বারণ করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের কোনো সমন্বয় নেই, কোনো পরিকল্পনা নেই, কোনো রোডম্যাপ নেই। এই যে সাত দিন দিয়েছে, তার পরে কী হবে? এখানে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে দিন আনে দিন খায় মানুষজন। এটা দায়িত্ব সরকারের যে এই মানুষগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করা। যেটা সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছে সম্পূর্ণভাবে।

তাহলে কি লকডাউনের বিরোধিতা করছেন-সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে তিনি বলেন, না, আমরা বিরোধিতা করছি না। এখন পর্যন্ত আমরা দেখছি যে একটা অকার্যকর শাটডাউন করছে। হাজারো লোকজন বের হচ্ছে, বাজারে যাচ্ছে। আবার শিল্পকলকারখানা খোলা রাখছে। দেখুন কতটা স্ববিরোধিতা।

তাহলে কীভাবে লকডাউন সফল করা যায়-প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ব্যাপারটা তো সহজ নয়, কঠিন নিঃসন্দেহে। আলাউদ্দিনের চেরাগ কারো হাতে নেই যে মুহূর্তে ঠিক করে ফেলবেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এনজিওগুলোকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করলে এই ধরনের লকডাউন সফল করা যায়। কিন্তু সরকারের সেই উদ্দেশ্যেই নেই বলে মনে করেন ফখরুল, ‘আপনি তো এখানে গণস্বাস্থ্যকে টেস্ট কিট তৈরি করতে দিলেন না। নিয়ত যদি ঠিক থাকে সব ঠিক থাকবে। তাদের (সরকার) নিয়তই খারাপ। তাদের নিয়ত হচ্ছে কানাডাতে বাড়ি বানাবে, বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি বানাবে এখান থেকে দুর্নীতি করে।’

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ঠিকমতো হচ্ছে না বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার বাসায় যারা কাজ করেন, তাদের টেস্ট করানোর জন্য আমি গত তিন দিন ধরে চেষ্টা করছি। তারা প্রত্যেক দিন উত্তরায় একটা সেন্টারে যায়, প্রত্যেক দিন বলে যে, ফরম নাই করা যাবে না। শেষে আজকে ভোর ৬টায় পাঠিয়েছি। সেখানে দেখা গেছে, যে গেছে তার সিরিয়াল ৫০ নাম্বার। বাকিরা সিরিয়াল পায় নাই। ওই সেন্টারে দেড় শর বেশি হয় না টেস্ট।

ফখরুল বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটাল সরকার, আমি এটাকে পুরোপুরিভাবে পরিকল্পিত ঘটনা বলে মনে করি। তারা এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করবার আরেক বড় প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ-সহিংসতার ঘটনার মামলায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে এই অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সব সময় দেশনেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে আসছি। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেবকে যে তিনি তার দুই-এক দিনের কথার মধ্যে একটা জরুরি কথা বলেছেন যে, এই করোনার মধ্যে অবিলম্বে তার পূর্ণাঙ্গ জামিন দেওয়া প্রয়োজন। আমি তার এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। এ জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads