ব্যয় ৩২২ কোটি টাকা কাজের অগ্রগতি শূন্য

রেল খাত উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় টঙ্গী থেকে ভৈরব বাজার পর্যন্ত সিগন্যালসহ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প

সংগৃহীত ছবি

রাজস্ব

ব্যয় ৩২২ কোটি টাকা কাজের অগ্রগতি শূন্য

# ১১০ প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে কোনো কাজ হয়নি # এক পয়সাও ব্যয় হয়নি ৯০ প্রকল্পে

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ২১ মার্চ, ২০১৯

রেল খাত উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় টঙ্গী থেকে ভৈরব বাজার পর্যন্ত সিগন্যালসহ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৬ সালে শুরু হয়ে দুই দফায় সংশোধনের পর গত অর্থবছরে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় শেষ বছরে ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় হলেও এ সময়ে মাঠপর্যায়ে কোনো কাজ হয়নি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির সর্বশেষ অর্থবছরে বাস্তবায়ন অগ্রগতি শূন্য। গত অর্থবছর এমন ১৮ প্রকল্পে ৩২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো কাজ হয়নি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ব্যয় হওয়া এ অর্থের বড় একটা অংশ অপচয় হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা প্রতিবেদনে আইএমইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত অর্থবছর ৯০টি প্রকল্পের আওতায় অর্থ বরাদ্দ থাকলেও একটি পয়সাও ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। ১১০টি প্রকল্পের মাঠপর্যায়ে অগ্রগতি ছিল একেবারেই শূন্য। ৭৫টি প্রকল্প শূন্য অগ্রগতি ও শূন্য ব্যয়ের দুটি তালিকায়ই রয়েছে। এ হিসাবে এডিপির আওতায় গত অর্থবছর শূন্য অগ্রগতির প্রকল্প ছিল ১২৫টি।

আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১৬০ উপজেলায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও রিসোর্স সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পে গত বছর এক কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে কোনো কাজ হয়নি। ৮৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরে নেওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হতে যাচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ৪৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হলেও গত বছর অগ্রগতি ছিল শূন্য। ৩১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটির মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি ভবন নির্মাণে রয়েছে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় গত অর্থবছর ছাড় হয়েছে ৪৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। শেষ বছরে বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক অর্থ ব্যয় হলেও বাস্তব অগ্রগতি দেখানো হয়েছে শূন্য।

আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ে চারটি প্রকল্পে ১১৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। রেলের লোকোমোটিভ রিলিফ ক্র্যান সংগ্রহ প্রকল্পে ৮৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ প্রকল্পটির পরিচালক মো. হাসান মনসুর জানান, ক্রয়সংক্রান্ত প্রকল্পে অফিস ব্যবস্থাপনা, দরপত্র তৈরি, প্রকাশ, বাছাইসহ বেশ কিছু কাজে অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে। এ ছাড়া অনেক প্রকল্পে মূল্য বাবদ অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়। ফলে বাস্তব অগ্রগতি না হলেও অর্থ ব্যয় করতে হয় বলে তিনি জানান।

রেলওয়ের শূন্য বাস্তব অগ্রগতির ১২০টি ব্র্রডগেজ পাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। চার লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে ২০০ মিটারগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পে। ২০ মিটারগেজ ডিজেল ইঞ্জিন ও ১৫০ মিটারগেজ ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পে ৭৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয় করেছে রেলওয়ে। ৭০ মিটারগেজ ডিজেল ইঞ্জিন সংগ্রহ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। বাকি ৫ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে রেল খাত উন্নয়ন কর্মসূচির টঙ্গী-ভৈরব বাজার ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নিউমুরিং টার্মিনালের যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্পে গত অর্থবছর ১০১ কোটি টাকা ব্যয়েও কোনো কাজ হয়নি। আমনুরা ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশন ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণে কোনো কাজ ছাড়াই ব্যয় হয়ে গেছে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। একইভাবে তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধকরণ শীর্ষক প্রকল্পে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ঢাকা আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে অগ্রগতি ছাড়াই ব্যয় হয়েছে ৪৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

বেশ কিছু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি স্থবির হয়ে আছে বলে প্রতিবেদনটির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তিন প্রকল্পে গত অর্থবছর কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। এর মধ্যে গত অর্থবছরের শুরু থেকে বাস্তবায়নে আসা বন্ড ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়করণ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২২ কোটি টাকা। ৫৮৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ের জাতীয় সিঙ্গেল উইন্ডো স্থাপন প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি টাকা। আর ২০০৯ সাল থেকে চলে আসা জাতীয় রাজস্ব ভবন নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১০ কোটি টাকা। তিনটি প্রকল্পের অর্থই ফেরত গেছে।

শতভাগ এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের ডাকা এক সভায় এর কারণ হিসেবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া এ বিষয়ে বলেন, জাতীয় রাজস্ব ভবন নির্মাণ প্রকল্পে জটিলতা থাকায় বরাদ্দ অর্থ ব্যয় হয়নি। এছাড়া প্রকল্পগুলোর অনুকূলে পূর্ণকালীন পরিচালক নেই। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবেও প্রকল্পে কাজ করছেন। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads